পার্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত পেসার আমির জামাল। অজিদের ছয় ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে অভিষেক টেস্টে ছয় উইকেট নিয়েছেন, আর অজিদের মাঠে এমন অর্জনের তালিকায় জামালের অবস্থান তিনে। ২৭ বর্ষী ডানহাতি পেসারের রাঙানো দিনে ব্যাট হাতে সাবধানে এগোচ্ছে পাকিস্তান।
আমির জামালের আগে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক টেস্টে ছয় বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন আরও পাঁচজন। যার মধ্যে ৭টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনজন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার ৭ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নাজির। ১৯৯৬ সালে একই অর্জন মোহাম্মদ জাহিদের। সবশেষ ২০২২ সালে অভিষেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেট নেন আবরার আহমেদ। ছয়টি করে উইকেট নেন আরিফ বাট ও বিলাল আসিফ। দুটিই ছিল অজিদের বিপক্ষে। ১৯৬৪ সালে মেলবোর্নে ৬ উইকেট নেন আরিফ। ২০১৮ সালে দুবাইতে একই অর্জন করেন বিলাল। তাদের তালিকায় নাম লেখালেন আমির জামাল। পার্থ টেস্টে ২০.২ ওভার বল করে ১১১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তৃতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে এমন অর্জনে নাম লেখালেন আমির। সর্বপ্রথম তার স্বদেশি আরিফ বাট ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ১৯৬৪ সালে। তিন বছর পর ভারতের সৈয়দ আবিদ আলী অ্যাডিলেডে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। ৫৬ বছর পর সেই কীর্তিতে নাম লেখালেন জামাল।
পার্থে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্টে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৫ উইকেটে ৩৪৬ রানে প্রথমদিন শেষ করে অজি দল। দ্বিতীয় দিনে বোর্ডে ১৪১ রান যোগ করে জামালের তোপে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। অজিদের ৪৮৭ রান সামনে রেখে ব্যাটে নেমে কিছুটা সাবধানী পাকিস্তান। ২ উইকেটে ১৩২ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা।
দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চের পর অজিদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। পাকিস্তানের হয়ে প্রথম আঘাত হানেন জামাল। দলীয় ৪১১ রানে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারিকে। ৭৩ বলে ৩৪ রান করে যান ক্যারি। দলীয় ৪৪৯ রানে মিচেল মার্শকে ফিরিয়ে অজিদের রানের গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন খুররাম শাহজাদ। ১০৭ বলে ৯০ রান করেন মার্শ।
বাকী তিন ব্যাটারকে ফেরান জামাল। উল্লেখযোগ্য রান করার আগেই ফিরে যান প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড। জামালের ৬ উইকেটের পাশাপাশি খুররাম নেন ২ উইকেট। শাহিন ও ফাহিম নেন একটি করে উইকেট।
পরে ব্যাটে নেমে শুরুটা খুব একটা খারাপ হয়নি পাকিস্তানের। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান তোলেন আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম উল হক। ১২১ বলে ৪২ রান করে শফিক ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। দলীয় ১২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারী দল। ৪৩ বলে ৩০ রান করে ফেরেন শান মাসুদ। ইমাম উল হক ও খুররাম শাহজাদ দিন শেষ করেন। তৃতীয় দিনে ইমাম ৩৮ রানে ও শান মাসুদ ৩০ রানে ব্যাটে নামবেন।
অজিদের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়ন।








