খেলার অতিরিক্ত চাপ সামলাতে বিশ্রামের কারণ দেখিয়ে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে খেলছেন না শাহিন শাহ আফ্রিদি। সিডনি টেস্টে তার না থাকাটা ইতিমধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের সহ-অধিনায়কের না খেলার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনায় মেতেছেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস।
শাহিন আফ্রিদির বেশ প্রশংসা করেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। এর কয়েকঘণ্টা পরই তারকা পেসারের না খেলার ঘোষণা আসে।
সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম বিস্ফোরক এক মন্তব্য করে বসেছেন। একইসঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে বড় মানসিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন ফরম্যাটে গুরুত্ব দিতে হবে, সেটির প্রতি জোর দেন।
‘এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে ম্যানেজমেন্টের কোনো সম্পর্ক নেই। না খেলাটা একমাত্র শাহিনের সিদ্ধান্ত। আপনি ম্যাচে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হতে চান নাকি কোটিপতি হতে চান, তা আপনার ব্যাপার।’
সম্প্রতি টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। নিউজিল্যান্ডে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। ২৩ বর্ষী পেসারের টেস্টকে অগ্রাধিকার না দেয়ায় ক্ষেপেছেন ওয়াসিম।
‘টেস্ট সিরিজের পরপরই নিউজিল্যান্ডে পাঁচটি টি-টুয়েন্টি আছে এবং শাহিন অধিনায়ক। কিন্তু টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে কে চিন্তা করে? আমি বুঝতে পারি, এটা বিনোদন এবং ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক লাভের জন্য। তবে ক্রিকেটারদের জানা উচিৎ যে টেস্ট ক্রিকেটই আসল।’
‘আমরা যদি সিডনিত টেস্টে ২০ বছর আগে যা ঘটেছিল তা নিয়ে কথা বলি, তবে টি-টুয়েন্টিতে গতরাতে কী হয়েছিল, তা কেউই জানে না। এটাই হচ্ছে পার্থক্য। এই ছেলেদের এবং শিখতে হবে, যদি আপনি খেলায় দুর্দান্ত হতে চান বা আপনি কী করতে চান? একজন কোটিপতি হতে চান। আপনি দুইটাই হতে পারেন। তবে একটু বেশি বুদ্ধি খাটিয়ে করতে হবে।’
এদিকে, শাহিন আফ্রিদির না খেলার বিষয়টি আরেক সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ইউনিসের কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর ও হাস্যকর মনে হয়েছে। বললেন, ‘এটা আমার জন্য সত্যি ধাক্কা খেয়েছি। কারণ আমি তাকে এই টেস্ট ম্যাচের অংশ হবেন বলে আশা করছিলাম। সে আগের ম্যাচে ভালো খেলছিল। আগের সেই শাহিন আফ্রিদির মতো নিজেকে অনুভব করতে শুরু করেছিল এবং বল সুইং করাচ্ছিল। গতি আরও ভালো হচ্ছিল।’
বাঁহাতি এ পেসারের চোট থেকে ফিরে আসার পর গতি কমা শুরু করে, যেটা প্রায়ই ১৩০-এর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রথম টেস্টে ৪৫.২ ওভারে খরুচে বোলিংয়ে ১৭২ রান খরচায় পান মাত্র ২ উইকেট। বক্সিং ডে টেস্টে অবশ্য তিনি পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেন। দুই ইনিংস বোলিং করেন ৫৪ ওভার, ১৬১ রানের বিনিময়ে পান ৬ উইকেট।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে আফ্রিদির বল হাতে বেশ চাপ নিতে হয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের বিষয়। চোট জর্জর দলে একজন লিড স্পিনার ছাড়াই অনভিজ্ঞ ফাস্ট বোলিং লাইনআপের নেতৃত্ব দিয়ে, তিনি প্রায় ১০০ ওভার বোলিং করেছিলেন। আফ্রিদির ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও, ২০২২ সালের জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার চেয়ে মাত্র আটজন পেস বোলার বেশি বল করেছেন।
সাদা বলের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব পাওয়ার কারণে তার কাজের চাপের আরেকটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সেরও তিনি অধিনায়ক। এবং গত বছর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের টি-টুয়েন্টি লিগে তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।








