আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের চার শীর্ষ কর্মকর্তার উপর নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষত নারী ও মেয়েদের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের জন্য একটি নতুন “বিশ্ব-প্রথম” স্বায়ত্তশাসিত নিষেধাজ্ঞা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে, যা তালেবান সরকারের উপর চাপ বাড়াতে সাহায্য করবে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এখন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। যার মধ্যে নতুন কাঠামোতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এর সঙ্গে আফগানিস্তানে এ সম্পর্কিত পরিষেবা এবং কার্যক্রম সরবরাহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া তালেবান কর্মকর্তারা হলেন- মুহাম্মদ খালিদ হানাফি (পূণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধের মন্ত্রী), নেদা মোহাম্মদ নাদিম (উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী), আব্দুল-হাকিম শারেই (বিচারমন্ত্রী), আব্দুল হাকিম হাক্কানি (প্রধান বিচারপতি)।
ওং বলেন, নারী ও মেয়েদের উপর নিপীড়ন এবং সুশাসন বা আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করার কারণে এই কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের কার্যকলাপে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, তাদের নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোটি ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালেবান কাঠামোর অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ১৪০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর গঠন করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের বিষয়ে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের নির্যাতনের জন্য তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা এবং প্রধান বিচারপতি হাক্কানির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আইসিসি জানিয়েছে, তালেবান মেয়েদের শিক্ষা, গোপনীয়তা, পারিবারিক জীবন, চলাচল, মত প্রকাশ, চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে “গুরুতরভাবে বঞ্চিত” করেছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে, দেশটিতে নারী ও মেয়েদের অধিকার ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তালেবান সরকারের বিধিনিষেধের ফলে মহিলারা এখন কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না এবং তাদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকারও সীমিত করা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
জাতিসংঘের মতে, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর, কমপক্ষে ১.৪ মিলিয়ন মেয়েকে তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে যাওয়ার বয়সী। এর পাশাপাশি, তালেবান সরকারের অধীনে আফগান জনগণের জীবনযাত্রার মানও মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে, বিশেষত মহিলাদের কর্মসংস্থানে নিষেধাজ্ঞা এবং মানবিক সহায়তার উপর ব্যাপক নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে।
পেনি ওং বিবৃতিতে বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তবে, নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোতে একটি ‘মানবিক অনুমতি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানবিক সাহায্য কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, তালেবানের নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আফগান সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।








