ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। আগের তিন দেখায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হজম করতে হয়েছিল মোট ১৭ গোল। র্যাঙ্কিংয়ে ১৬০ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ। তাদের সামনে ঘরের মাঠে ইতিবাচক ফুটবল খেলার চ্যালেঞ্জটা হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা রক্ষণাত্মক খেলে উন্নতির ছাপ রেখেছে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ২-০ গোলে হারলেও স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স নিয়ে মিলেছে খানিক স্বস্তি।
আই-গ্রুপে পাঁচ ম্যাচে এক পয়েন্ট তোলা বাংলাদেশ টেবিলের তলানিতেই থাকল। সব ম্যাচ জিতে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ১৫।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে অজি দল। তৃতীয় মিনিটে অস্ট্রেলিয়া কর্নার পায়। এ সময় তারেক কাজী ও মিচেল ডিউকের মাঝে তর্কের এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিও হয়। রেফারির হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশিদূর গড়ায়নি।
পঞ্চম মিনিটে নেসটরি ইরানকুন্দা ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, শেষ মুহূর্তে এগিয়ে এসে বল লুফে নেন মিতুল মারমা। খানিক পর কুসিনি ইয়েনগি ডি-বক্সে বিপজ্জনক হয়ে উঠলে কর্নারের বিনিময়ে বল বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান।
হৃদয়ের বাড়ানো বলে দশম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন রাকিব হোসেন। যেটি ছিল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম আক্রমণ। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক মিতুল কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে দ্বাদশ মিনিটে ফিস্ট করে জাল অক্ষত রাখেন।
বায়ার্ন মিউনিখে নাম লেখানো ফরোয়ার্ড ইরানকুন্দার ডানপায়ের শট ১৭ মিনিটে পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ২৭ মিনিটে জর্ডান বসের ক্রসে হেড নিতে পারেননি ডিউক। এ যাত্রায়ও লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয়নি ক্যাঙ্গারুবাহিনী।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে ঘটে সর্বনাশ! ইরানকুন্দার পেছনে বাড়ানো বলে মিডফিল্ডার আডজিন রাসটিচের ৩০ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের শট ছিল, যাতে স্বাগতিক ডিফেন্ডার মেহেদী হাসানের গায়ে বল লাগে, দিক পরিবর্তন করে বল বাংলাদেশের জালে জড়ালে লিড পায় অস্ট্রেলিয়া।
মিনিট চারেক পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে রাকিব তাড়াহুড়ো করে শট নেয়ায় বল পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। জর্ডান বস ডি-বক্সে ঢুকে গেলে ৩৯ মিনিটে তিন স্বাগতিক ডিফেন্ডার তাকে আটকে দেন। মিতুল সময়মত বল ধরলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বৈধ ট্যাকলে বস পড়ে যান। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি না বাজানোয় অজি ডিফেন্ডার খানিকটা রেগে যান।
খেলার ৪৩ মিনিটে অতিথি মিডফিল্ডার কনর মেটকালফের ক্রসে বল পাওয়া ডিউক হেড নিলে মিতুল বল লুফে নেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের কাছে ফ্রি-কিক পায় অস্ট্রেলিয়া। ফাউলের শিকার হন রাসটিচ। ফ্রি-কিকে পাওয়া বলে হ্যারি সোটার হেড নিলে পোস্টের উপর দিয়ে যায়।
বিরতির পর পায়ে চোট পাওয়ায় মিডফিল্ডার মো. সোহেল রানা মাঠে খানিকক্ষণ পড়ে থাকেন। এরপর ফিজিওর সাথে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। খানিকপর মাঠে নেমে তিনি আবারও পড়ে যান। ৫২ মিনিটে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে জামাল ভূঁইয়াকে নামান কোচ ক্যাবরেরা।
ইরানকুন্দা ৫৭ মিনিটে ঈসা ফয়সাল ও সোহেল রানাকে ফাঁকি দিয়ে বাঁ-পায়ে শট নিলে পোস্টের উপর দিয়ে যায়। বসের লম্বা পাসে ইয়েংগি হেডে বল জালে জড়িয়ে ৬২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
চোটে পড়ায় ৬৯ মিনিটে স্ট্রেচারে করে তারেক কাজী মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এ ঘটনার খানিকপর ফাঁকা পোস্টে বদলি অতিথি খেলোয়াড় অ্যাডাম ট্যাগার্ট শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ক্যাবরেরা আনেন তিন পরিবর্তন। সোহেল রানা, তারেক কাজী ও সাদ উদ্দিনের বদলে চন্দন রায়, শাকিল হোসেন ও রিমন হোসেনকে নামান।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম কর্নার পায়। শর্ট কর্নার কিক নেন জামাল। বল দেয়া-নেয়া করে শট নেন জামাল, বল তালুবন্দি করেন অতিথি গোলরক্ষক জো গাউচি। মেটকালফের কোণাকুণি শট ৭৫ মিনিটে আস্থার সঙ্গে ধরেন মিতুল। কয়েক সেকেন্ড পর পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ আল নাসেরের ফুটবলার আজিজ বেহিচ খেলতে নামেন।
স্বাগতিক ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ৮৩ মিনিটে ঈসা ফয়সালের পরিবর্তে নামেন। এরপর চোট পাওয়ায় স্ট্রেচারে করে মো. হৃদয়কে মাঠের বাইরে যেতে হয়। খেলা চলাকালীন ৮৮ মিনিটে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে টানা-হেঁচড়া করে বের করে নিয়ে যায়। অল্পসময়ের জন্য রেফারি ম্যাচ থামান। বাকি সময়টা আর কোনো গোল হজম না করে পার করে বাংলাদেশ।







