পরিবার, সাবেক কোচ, প্রিয় সতীর্থ, বোলারদের চিন্তায় ফেলা সেই ব্যাট, জার্সি, এমনকি মাছ ধরার শখের বড়শিটাও ছিল। ছিলেন না কেবল অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। কদিন আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬ বর্ষী অজি তারকার। শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে আবেগাক্রান্ত যেমন হলেন সাবেক সতীর্থরা, কাঁদলের অঝোরেও।
মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে মাইকেল ক্লার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন সাইমন্ডস। আইপিএলের প্রথম আসরে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হওয়ায় তাকে হিংসা করেছেন ক্লার্ক, এমন অভিযোগ তুলেছিলেন। জবাবে সাইমন্ডসকে এক হাত নিয়ে সম্পর্ক তিক্ত করেছিলেন ক্লার্কও। শুক্রবার টাউন্সভিলে শেষকৃত্যে বন্ধুকে চিরবিদায় জানানোর সময় নিঃস্বই দেখিয়েছে ক্লার্কের চোখমুখ।
সাইমন্ডসের স্মরণে শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ইয়ান হিলি, রিকি পন্টিং, মার্ক ওয়াহ, গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়াটসন, মিচেল জনসন, ক্লার্কসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা, এনআরএল কিংবদন্তি ড্যারেন লকিয়ার এবং গর্ডন ট্যালিস। যেখানে সাইমন্ডসকে বিদায় জানাতে অশ্রুসিক্ত গিলক্রিস্টের কথা সবাইর মন ভারি করেছে।
‘‘এখানে আসার পথে আমি উইলের (সাইমন্ডসের ছেলে) সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম। সে আমাকে বলেছিল ‘কি গিলি? আমি এখন উইকেটরক্ষক।”, ‘সরি রয়’ আকাশের দিকে তাকিয়ে গিলক্রিস্ট কেবল এটুকুই বলতে পেরেছেন। আর অঝোরে চোখের জল ফেলেছেন।’’
‘তিনি একজন খাঁটি হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, তিনি কঠিন সময়েও পথ খুঁজে পেতেন। দুষ্টু চরিত্র বলা হলেও মাঠে ও মাঠের বাইরে অন্যদের সাহায্য করার জন্য যা করা দরকার তাই করতেন। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না তিনি নেই।’ যোগ করেন গিলি।
সাবেক সতীর্থ ম্যাথিউ মট সাইমন্ডসকে ভাই বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছে, ‘আমার কাছে সে ছিল ভাইয়ের মতো। অনেককিছু দেয়ার ছিল তার। এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। সবাই ব্যস্ত থাকার পরও মাছ ধরার ট্রিপের কথা শুনলে আমি চলে আসতাম। তার সাথে আবার মাছ ধরার সুযোগটি খুব মিস করব।’
ইয়ান হিলি স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে, ‘এখানে একমাত্র আমিই স্যুট পরে এসেছি। রয় এটা দেখে মজা পাবেন। একবার সাইমন্ডস, ম্যাথিউ মট এবং অন্য একজন বন্ধু মর্টন দ্বীপের কাছে একটি নৌকায় ছিলেন। পরে নৌকাটি ফুটো হয়ে গেলে হাঙ্গর ও কুমির-আক্রান্ত জলে তীরে উঠতে একঘণ্টা সাঁতার কাটতে বাধ্য হয়েছিলেন। রয় ও মট সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও অপরজন উঠতে পারছিলেন না। পরে রয় তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনেন।’
সাইমন্ডসের সাবেক গুরু লেহম্যান বলেছেন, ‘রয়কে কোচিং করা ছিল সবচেয়ে কঠিন। কিন্তু সে সেরা একজন ছিল, কারণ সে বুঝতে পারত এবং কাজে লাগাত। তাকে কোচিং করানোটা আনন্দের ছিল।’







