ডারউইনে সোনালী দিন কাঁটিয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে রাঙিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে দিয়েছেন টাইগার পেসার। এরপর ব্যাট হাতেও দিনটা ভাল কাটিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে এক উইকেট হারালেও মুমিনুল হক ও তানজিদ তামিমের পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে প্রথম দিনের নিয়ন্ত্রণ টাইগারদের হাতে।
মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ ওভার ব্যাট করে ১৯৮ রানে থামে তারা। জবাবে নেমে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান করে বাংলাদেশ। ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন তানজিদ তামিম (৩২*) এবং মুমিনুল হক (৩৫*)।
চা বিরতির খানিক পরেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে ব্যাটে নেমে দেখেশুনেই শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ। উদ্বোধনীতে ৩৬ রান তোলেন দুজনে। ৮.২ ওভারে সাদমানকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। ৩০ বলে ২০ রানে আউট হন টাইগার ওপেনার।
এরপর মুমিনুল ও তানজিদ মিলে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে অজিদের শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনীতে দেখে-শুনেই শুরু করেছিলেন ট্রাভিস হেড ও জ্যাকে ওয়েদারল্যান্ড। ৪৫ রানে জুটি ভাঙে। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে হাসান মাহমুদের অফ-স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ড্রাইভ করার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েদার্যাল্ড। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় লিটন দাসের গ্লাভসে। ৪ চারে ৩৭ বলে ২৩ রানে ফেরেন অজি ওপেনার।
নিজের পরের ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন হাসান। ১৪তম ওভারে চতুর্থ বলে হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে কিছুটা বাড়তি বাউন্স ছিল। হেড তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু বলটি ভেতরে ঢুকে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ৩ চারে ৩৯ বলে ২২ রানে ফেরেন হেড।
১৭তম ওভারে স্মিথকে আউট করার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। ইবাদতের করা দ্বিতীয় বলে তৃতীয় স্লিপে স্মিথের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। বল ব্যাটে লেগে বেশ নিচু হয়ে এলেও ক্যাচটি নেওয়ার মতো ছিল। ২ রানে জীবন পান স্মিথ।
আগের ওভারে স্মিথ জীবন পেলেও নিজের পরের ওভারে এসে প্রথম সাফল্য তুলে নেন ইবাদত। টাইগার পেসারের করা অফ-স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি কিছুটা ভেতরের দিকে আসছিল। লাবুশেন বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল সেকেন্ড স্লিপের দিকে ভেসে যায়। নিচু ক্যাচটি লুফে নেন শান্ত। ২০ বলে ১ রান করেন।
মধ্যাহ্ন বিরতি আগে আরও একটি সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবার ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। টাইগার পেসোরের গুড লেংথের ডেলিভারি কিছুটা ইন সুইং করেছিল। গ্রিন বলটি খেলতে শরীরের বেশ সামনে হাত বাড়িয়ে দেন। তবে বলে আঘাত করার সময় ব্যাটের মুখ ঘুরে যায়। শর্ট মিডউইকেটে বলটি যায় মুশফিকুর রহিমের দিকে। দুর্দান্ত ক্যাচে গ্রিনকে ফেরান মুশফিক। ১ ছক্কায় ১৩ বলে ১৩ রান করেন।
২২ ওভরে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। বিরতির পর ফিরে অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে ৮৫ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন স্মিথ। সেই জুটি ভাঙ্নে ইবাদত। ৩৬.১ ওভারে টাইগার পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। কাভারের দিকে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ২ চারে ৪৩ বলে ১৯ রান করেন।
১৫২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বিউ ওয়েবস্টারকে দ্বিতীয় শিকার বানান তাসকিন আহমেদ। টাইগার তারকার অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাক-অব-লেংথের বলে ওয়েবস্টার ভুল লাইনে ব্যাট চালান। সংযোগ না ঘটায় বোল্ড হন। ১০ বলে ১২ রানে ফেরেন।
২০ রান যোগ করতেই সপ্তম উইকেট হারায় স্বাগতিক দলটি। দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ককে তৃতীয় শিকার বানান হাসান মাহমুদ। ৪৪.৩ ওভারে টাইগার পেসারের অফস্টাম্পের বাইরের বলে প্যাট কামিন্সের বাট ছুঁয়ে যায় লিটন দাসের গ্লাভসে। ১৯ বলে ৯ রান করেন।
নিজের পরের ওভারে এসে চতুর্থ সাফল্যের দেখা পান হাসান। ৪৬.৫ ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ১ রান করা মিচেল স্টার্ককে।
এরপর নাথান লায়নকে নিয়ে দ্বিতীয় সেশন পার করেন স্মিথ। ৮ উইকেটে ১৮৫ রানে চা বিরতিতে যায় অজিরা। বিরতির পর ১৮৯ রানে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে হাসানের শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে চার্জ করতে চেয়েছিলেন স্মিথ। এগিয়ে এসে আড়াআড়ি ব্যাটে আঘাত করেন, তবে সোজাসুজি ওপরে উঠে যায়। লিটন স্টাম্পের পেছনে সরে এসে বল গ্লাভসবন্দি করেন লিটন। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১০৯ বলে ৭১ রান করেন স্মিথ। টাইগার পেসারের পঞ্চম শিকার হন অজি তারকা।
পরের ওভারে এসেই আরও একটি উইকেট নেন হাসান। ৫৩তম ওভারের শেষ বলে হাসানের শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন নাথান। টপ এজ হয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন তানজিদের হাতে। ১৩ বলে ৭ রান করেন নাথান। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে। হ্যাজেলউড অপরাজিত থাকেন ৪ রানে।
১৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। টাইগার পেসারের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এটি। ১১ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩৯ রানে ২ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন। ১৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন।








