ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন এই তিন দেশই জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তত্থই জানিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন ধ্বংস করার ফল।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আবুধাবির হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্সে গ্যাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যখন ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগে বলে জানায় আবুধাবি মিডিয়া অফিস। এ ঘটনায় দুই আমিরাতি ও এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
কুয়েত জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ইরান থেকে আসা ড্রোনের একাধিক ঢেউ তারা প্রতিহত করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, কিছু ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মোট ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে তারা দাবি করে।
বাহারাইনের এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন প্রতিহত করতে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন এবং কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিত্রা দ্বীপ এলাকায়।
রাজধানী মানামাতে সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানায় এএফপি। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন, যেখানে দেশটির প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও তাদের তেল অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়, পাশাপাশি সিরি দ্বীপ এলাকায়ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইরানের হরমুজ প্রণালী এলাকায় নৌ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে বলে আগের রিপোর্টে জানানো হয়।
যুদ্ধবিরতি ঘিরে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক আশার ইঙ্গিত
আল জাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রেনা জানান, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় যোগাযোগের ঘাটতির কারণে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ মুহূর্তেই এই উত্তেজনা আরও বাড়ে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচলকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।







