ঢাকা-১৭ আসনে ভোট চলাকালে সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ বলেছে, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোপুরি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটে এবং এতে কেন্দ্রের ভেতরে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
সোমবার ১৭ জুলাই রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি চ্যানেল আই অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
যেভাবে হামলা
সোমবার বিকেল ৩ টা ১৮ মিনিটে বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন হিরো আলম। এ সময় সঙ্গে ছিল তার সমর্থকরাও। বিপক্ষ দলের সমর্থকরা তখন ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। বিকেল ৩ টা ২৫ মিনিটের দিকে গেট থেকে বের হওয়া মাত্র বিপক্ষ সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দেন এবং মারধর শুরু করেন। তাদের মারধরের মাটিতে পড়ে যান হিরো আলম। এ সময় প্রায় ৫০ জনের বেশি যুবক ৩০ সেকেন্ড ধরে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। হিরো আলমের সমর্থকরা তাকে দ্রুত তুলে নিয়ে দৌড় দিলে বিপক্ষ সমর্থকরা তাদের পেছন পেছন যায় এবং তাদের আবারও আরেক দফা হামলা করে। বারবার হামলার এক পর্যায়ে হিরো আলমের সমর্থকরা দ্রুত বনানীর দিকে চলে যান। বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে একটি স্থানে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে তার সেখানে পৌঁছালে গাড়িতে করে চলে যান।
এই অবস্থা দেখে উপস্থিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করেন। পরে হিরো আলমকে চিকিৎসার জন্য রামপুরার বেসরকারি বেটার লাইভ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ভিডিও দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সেসময় জানান ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান।
এরপর পরই হিরো আলমকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ দু’জনকে আটক করেন। আটকরা হলেন- বনানী থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল্লাহ বিল্পব ও সানোয়ার গাজী।
সেসময় ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন: কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনার সন্দেহজনক হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
নির্বাচন বয়কট
মারধরের ঘটনার পর ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন বয়কট করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। তার পক্ষ থেকে বয়কটের ঘোষণা দেন নির্বাচনী কমিটির প্রধান ইলিয়াস হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণরূপে এই নির্বাচন বয়কট করছি। এখন যদি হিরো আলম বিপুল ভোটে জয়ীও হন তবুও আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি। হিরো আলমের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের বিচার চাই।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রেপ্তার
রাতে অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিকেলে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রের বাইরে হিরো আলমের ওপর হামলার পরপর ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের সদস্যরা।
তিনি জানান, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোপুরি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটে এবং এতে কেন্দ্রের ভেতরে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারি, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তর করে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেই মামলা হবে
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় বনানীর বিদ্যানিকেতন স্কুলের সামনে থেকে যে দুজনকে ডিবি আটক করেছিল, তাদেরকে আমাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, তাই মামলা দায়ের হয়নি। তবে আমরা আশা করছি ভুক্তভোগী অভিযোগ করবেন এবং দ্রুত মামলা রাজু হবে।
এ ঘটনায় পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্ত করছে জানিয়ে তিনি বলেন: হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ভিডিও ফুটেজ আমরা বিশ্লেষণ করেছি। কারা কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল এসব বিষয় জানার জন্য আমরা তদন্ত করছি।
ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬০৯ ভোট।








