এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন সময় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে আন্দোলনরত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে কলেজে চলমান অনার্স প্রথম বর্ষের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় বই, আসবাবপত্র, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভিতরে শিক্ষকের ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি অ্যাম্বুলেন্স, দুইটি বাইক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া প্রত্যেকটি অফিসকক্ষ ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করা হয়েছে।
জানা যায়, চিকিৎসা গাফিলতিতে সহপাঠীর মৃত্যু, লাশ আটকে রাখা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ঘেরাও করে বিভিন্ন কলেজের ইন্টারমিডিয়েটে পড়া শিক্ষার্থীরা। এসময় কলেজের প্রধান ফটকও ভাঙচুর করে। এরপর সোহরাওয়ার্দী কলেজের দিকে গেলে শুরুতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় ৩৫ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢুকে পড়ায় সোহরাওয়ার্দী কলেজের পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষসহ অধিকাংশ কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা একটি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, ২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে শিক্ষক ও স্টাফদের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণ ছাড়েন।
মামুন নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজে অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন ক্যাম্পাসে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি), ঢাকা সিটি কলেজ, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ, দনিয়া কলেজসহ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলা-ভাঙচুর করেছে। তারা তাদের একতাবদ্ধতার পরিচয় দিয়ে দুটি ক্যাম্পাসে আঘাত করেছে।

ভুক্তভোগী এক কলেজ ছাত্র বলেন, পরীক্ষা দেড় ঘণ্টা চলার পর আমরা ভাঙচুরের শব্দ পাই। দুই ঘণ্টা পর শিক্ষকরা পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা করেন। সোহরাওয়ার্দী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক শাহানাজ সিদ্দিকা বলেন, আজ দুপুরে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক পরেই হঠাৎ হামলা শুরু হয়। আমরা ৩ টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। নিচে আমরা কোনোমতে একটা জায়গায় লুকিয়ে ছিলাম। পরে দুইতলায় উঠেছি।
সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারবার সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু তারা শুধু বলেছে তারা ন্যাশনাল মেডিকেলে আছেন। কয়েকজন পুলিশ এসেছিল। তাও পর্যাপ্ত ছিল না। আমরা বারবার সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছি কিন্তু সেটা পাইনি। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি দুঃখিত।







