রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার এলাকায় খাবার অর্ডারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার ও কবি নজরুল কলেজের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানজিল কবি নজরুল কলেজের সামনে একটি ফুডকোর্টে খাবার অর্ডার করলে দোকানদারের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এসময় ঘটনাস্থলে কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল, যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিনসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়। কাটাকাটির একপর্যায়ে তানজিলকে ধরে কলেজের সামনে নিয়ে যান। পরে তানজিল তার বন্ধুদের খবর দিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ও কিছু সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে কবি নজরুল কলেজের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। এসময় একজন পথচারী মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে হামলার শিকার হয়ে আহত হন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর জবি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেন। এসময় তারা ফুড কোর্টটি উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী তানজিল বলেন, আমরা চার পাঁচ জন লক্ষ্মীবাজারে পিৎজা খেতে যাই। দোকানদার ১৫-২০ মিনিট দেরি হবে জানায়। আমরা বলেছি একটু দ্রুত দিতে। কিন্তু প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে বসে থাকার পরও আমাদের না দিয়ে পরে যারা এসেছে তাদেরকে পিৎজা দেয়। তখন দোকানদারকে জিগ্যেস করি কেন তাদেরকে আগে দেয়া হচ্ছে। এমন সময় কবি নজরুল কলেজের সদস্য সচিবসহ দশ বারোজন সেখানে আসে৷ এবং সেখানেই সেটা মিমাংসা হয়ে যাচ্ছিল এর মধ্যে একজন বলে ‘এ এরে কলেজের ভিতরে নিয়ে আয়, কথা আছে’। এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর সৃষ্টি হয় এবং আমাদের কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়।
এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফাহিম বলেন, ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম। তবে শুনেছি, জগন্নাথের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে খাবার দোকানে ঝামেলা হয়েছে। যদি ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে এবং প্রমাণ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে কথা বলতে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন জানান, তিনি ঢাকার বাইরে থাকায় এ বিষয়ে অবগত নন, তবে ক্যাম্পাসে ফিরে বিস্তারিত জানার পর ব্যবস্থা নেবেন।
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ক্যাম্পাসে গিয়ে যাচাই-বাছাই করব। যদি ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







