মিয়ানমারের ব্যাপকভাবে সমালোচিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া হিসাবে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত যখন নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটে। একই সময়কালে সামরিক বাহিনী অন্তত ৪০৮টি আকাশপথে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই নির্বাচনকে আগেই প্রহসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বহু দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ভোটের কারণে এই ফল প্রত্যাশিতই ছিল।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে কারাবন্দি করা হয়। তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি), যা অভ্যুত্থানের আগে টানা দুটি নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
অনেকের ধারণা, সামরিক জান্তা প্রক্সি রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতেই এই নির্বাচন আয়োজন করেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ভলকার টুর্ক নির্বাচনকে সামরিক বাহিনীর সাজানো আয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী ও কিছু জাতিগত গোষ্ঠীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
টুর্ক আরও বলেন, মানুষ ভয়ভীতির কারণে ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বড় অংশে সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত ছিল।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডহ্যাভার জানান, বেসামরিক মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ দফা ভোট পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতির কারণে এই সংখ্যা বর্তমানে অসম্পূর্ণ থাকতে পারে বলে তিনি জানান।







