৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে অনারারি পাম দ’অর পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কিংবদন্তী হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। এদিন তার হাতে পাম দ’অর পুরস্কার তুলে দেন হলিউডের আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
কান উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে (১৩ মে) ডি নিরো বলেন, “আমার দেশে আমরা এখন গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করছি—যেটাকে একসময় খুব স্বাভাবিক ভাবতাম। এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা না, আমাদের সবার। কারণ, শিল্প সত্যের খোঁজ করে, শিল্প বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করে। এই কারণেই শিল্পকেই এখন হুমকি মনে করা হচ্ছে।”
তিনি ট্রাম্পকে ‘বৈশ্বিক হুমকি’ বলে অভিহিত করে বলেন, “যার কার্যকলাপ কেবল আমেরিকাকে নয়, গোটা বিশ্বকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত নয়—এমন সব সিনেমার উপর ১০০% শুল্ক বসিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি প্রণোদনার কারণে আমেরিকান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি “অত্যন্ত দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
এই প্রসঙ্গ টেনে ডি নিরো বলেন,“তোমরা সৃজনশীলতার কোনো দাম দিতে পারো না। কিন্তু ট্রাম্প সেটার উপর ট্যাক্স বসিয়ে দিলেন। এটা শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়—এটা একটা বৈশ্বিক সংকট। আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। আমাদের এখনই কিছু করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার অসাংস্কৃতিক প্রেসিডেন্ট নিজেকে আমাদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের (কেনেডি সেন্টার) প্রধান বানিয়ে নিয়েছেন। তিনি শিল্প, মানবিক জ্ঞান ও শিক্ষায় বাজেট কাটছেন।”
ডি নিরো তার বক্তব্যের শেষে শ্রোতাদের আহ্বান জানান— “সহিংসতা নয়, কিন্তু গভীর আবেগ ও সংকল্প নিয়ে আমাদের এখন সংগঠিত হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, এবং ভোট দিতে হবে।”
এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন—এই শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রে আবার মুদ্রাস্ফীতির জন্ম দিতে পারে, সাধারণ আমেরিকানদের খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে হাজার হাজার ডলার, এবং দেশকে আবারো মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে—যা এমন একজন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হতে পারে, যিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে। –প্রেস টিভি







