ভারতীয় নাগরিক জিবরান তায়েবী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় পুর্নবিবেচনা চেয়ে আসামি ইয়াছিন রহমান টিটুর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ রিভিউ খারিজের এই রায় দেন। আদালতে ইয়াছিন রহমান টিটুর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার তানিয়া আমির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।
এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক টি এ খানের একমাত্র ছেলে জাহাজ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রান্স মেরিটাইম (বিডি) লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিবরান তায়েবী চাকরির সুবাদে স্ত্রী তিতলী নন্দিনীকে নিয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। ১৯৯৯ সালের ৯ জুন নগরীর দেওয়ানহাট এলাকায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে জিবরান খুন হন। এ ঘটনার পরদিন জিবরানের সহকর্মী জেমস রায় ডাবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২০০২ সালের ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে আসামী ইয়াছিন রহমান টিটু, ওমর আলী ও আলমগীরকে খালাস দেয়া হয়। খালাস পাওয়াদে মধ্যে হত্যার ‘পরিকল্পনাকারী’ ইয়াসিন রহমান টিটু ছিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ কেডিএসের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের ছেলে।
একপর্যায়ে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে আসামী ও রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ হাইকোর্ট ইয়াসিন রহমান টিটু, ওমর আলী ও আলমগীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া মো. সিদ্দিককে হাইকোর্টের রায়ে খালাস দেওয়া হয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের পর বিদেশ থেকে এসে ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর টিটু চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইয়াছিন রহমান টিটু কারাগার থেকে আপিল করলে ২০১২ সালের ১ আগস্ট ততকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে টিটুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর টিটু ওই বছরের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আপিল বিভাগের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করে টিটু। সে রিভিউ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী ততকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরবর্তী বিষয়টি আবার রিভিউ শুনানির জন্য আনা হয়।







