পরিবেশ

কপ৩১ এর আগে শেষ হলো এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন

কপ৩১ এর আগে শেষ হলো এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ যুব জলবায়ু সম্মেলন রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ (আরসিওয়াই) এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হয়।

সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব এবং জলবায়ু সংকট মোকাবেলার বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হলো। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের তরুণদের ১২টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর আয়োজন করেছে সিক্ত বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)।

এই সম্মেলনটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফসিসিসির যুব সংগঠন ইয়াঙ্গোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এর প্রতিপাদ্য ছিল “ফ্রম মাউন্টেন টু সি: ইউনাইটেড ফর ক্লাইমেট জাস্টিস”।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ২৮টি দেশের ৫০০-এর বেশি তরুণ, জলবায়ু কর্মী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

চার দিনব্যাপী আয়োজনে প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, কপের আদলে বিভিন্ন সিমুলেশন সেশন, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দেশ ও জনগোষ্ঠী যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং সেগুলো মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, তরুণদের নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এই সম্মেলনটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য কপ৩১ এর প্রস্তুতির একটি অনুশীলন মঞ্চ হিসেবেও কাজ করেছে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেখা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা যৌথভাবে একটি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তৈরি করেন। এটি আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অফ ইয়োথ ও কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিস (কপ৩১) এ তুলে ধরা হবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউএন উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল। তিনি জলবায়ু ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা যেগুলো ঋণ নিচ্ছি, তা ভবিষ্যতে তরুণদেরই পরিশোধ করতে হবে। তাই এই অর্থের সঙ্গে যদি আপনাদের স্বার্থ জড়িত থাকে, তাহলে আপনাদেরকে মতামতের গুরুত্ব থাকতে হবে। আর আপনাদের প্রতিটি বক্তব্যই হতে হবে তথ্য, উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তিতে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ। তিনি তরুণ অংশগ্রহণকারীদের মনে রাখতে বলেন যে, এই সম্মেলনের বাইরে আরও অনেক মানুষের কণ্ঠস্বর রয়েছে, যাদের প্রতিনিধিত্ব করাও জরুরি।

তিনি বলেন, “কপ৩১ এ রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট নিয়ে যাওয়ার সময় ভাবুন- এখনো সেখানে কাদের কথা উঠে আসেনি? বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ শিশু ও তরুণদের জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন শুরু হবে আসল যাত্রা- এটার বাস্তবায়ন। আপনারা যখন বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন, তখন সেই মানুষদের বাস্তবতা, দাবি ও স্বপ্ন বিবেচনায় নিন, যারা এই আলোচনায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেনি। আর একটা বিষয় নিশ্চিত করবেন যে, ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন কোনো সিদ্ধান্তে যেন একটা শিশুর কণ্ঠস্বরও উপেক্ষিত না থাকে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের অ্যাডভাইজার ও প্রফেসর এমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত। তিনি তরুণদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “নীতিনির্ধারণের ভাষা বুঝতে শিখতে হবে। তরুণদের জন্য উত্থাপিত যে কোনো দাবি বা উদ্যোগ হতে হবে তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। অনুষ্ঠানে “ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইটস ইমপ্যাক্ট ইন এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড অ্যাকশন রিকোয়ার্ড” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর এর ডিরেক্টর ড. মো. গোলাম রব্বানী।

এ ধরনের আয়োজন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ৪ (মানসম্মত শিক্ষা), এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) এবং এসডিজি ১৭ (অংশীদারিত্ব) এর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নেয়।

বিষয়:এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬ কপ৩১ ব্র‌্যাক ইউনিভার্সিটি রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…