এশিয়া কাপে সুপার ফোরে শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় শুরুতে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব-হৃদয়ের শতরান জুটিতে চাপ কাটিয়ে উঠলেও পরে ফের চাপে পড়ে। শেষদিকে নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদীর ক্যামিওতে ভারতকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টিম টাইগার্স।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। আগে ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
ব্যাটে নেমে শুরুতে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম ও এনামুল হক বিজয়। তৃতীয় ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে কোনো রান না করে বোল্ড হন লিটন। উইকেটরক্ষক ব্যাটারের ব্যাট-প্যাডের মাঝে বড় ফাঁকটা ছিল দৃষ্টিকটু।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা তানজিদ তামিম স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন। তিন বাউন্ডারি মেরে ইনিংস বড় করার আশা দেখান। শার্দূল ঠাকুরের অফ স্টাম্পের বাইরে করা শর্ট বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ব্যাটের নিচের কানায় বল লেগে স্টাম্প উপড়ে যায়। ১২ বলে ১৩ রানে শেষ হয় ইনিংস।
৫.৪ ওভারে শার্দূলের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লোকেশ রাহুলের গ্লাভসবন্দি হন ৪ রান করা বিজয়। ১৪তম ওভারের শেষ বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে অক্ষর প্যাটেলের শিকার হন মিরাজ। ২৮ বলে ১৩ রান করে যান।
৫৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর সাকিব আল হাসানের ফিফটি ও তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে অনবদ্য জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ২৫.৪ ওভারে অক্ষরকে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ৫৫তম ফিফটি পূর্ণ করেন সাকিব। ৬৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা।
ঘুরে দাঁড়ানোর নেতৃত্বে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান সাকিব। ১০১ রানের জুটি গড়ে ৩৩.১ ওভারে দলীয় ১৬০ রানে শার্দূলের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন। ছয়টি চার ও তিন ছক্কায় ৮৫ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন টাইগার অধিনায়ক।
পরের ওভারে জাদেজার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন শামীম। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি সাতে নামা ব্যাটারের। ৫ বলে ১ রান করেন।
৩৯.৪ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। ৭৭ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা ছিল। ৪১.২ ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে তিলক ভার্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। ৮১ বলে ৫৪ রান করেন।
আটে নামা নাসুম আহমেদ দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেরেন ফিফটি ছোঁয়ার আগে। ৪৭.২ ওভারে দলীয় ২৩৮ রানে প্রষিধ কৃষ্ণার বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হন টাইগার স্পিনার। ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৪৫ বরে ৪৪ রান করেন নাসুম।
এরপর অভিষিক্ত তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন শেখ মেহেদী। ২৩ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী, ৮ বলে ১৪ রানে তানজিম।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন শার্দূল ঠাকুর। মোহাম্মদ শামি নেন দুটি উইকেট।








