এশিয়া কাপের সুপার ফোরে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে আগেই ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে অবশ্য জয়ের দেখা পেয়েছে টিম টাইগার্স। দাপুটে বোলিংয়ে ভারতকে ৬ রানে হারিয়ে সুখস্মৃতি নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করছে সাকিব আল হাসানের দল।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব-হৃদয়ের শতরান জুটিতে চাপ কাটিয়ে উঠলেও ফের চাপে পড়ে। শেষদিকে নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদীর ক্যামিওতে ভারতকে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ২৫৯ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
এশিয়া কাপ সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা ডানহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিব ক্যারিয়ারের প্রথম ওভারেই নিয়েছেন উইকেট। ফেরান ভারতের অধিনায়ক বিপদজ্জনক ব্যাটার রোহিত শর্মাকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফেরান তিলক ভার্মাকেও। তানজিমের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে ভারত।
দুই বল খেলে কোন রান যোগ করার আগেই বিজয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত। রোহিতের দেখানো পথে হাটেন ভারতের অভিষিক্ত ব্যাটার তিলক ভার্মা। তানজিম সাকিবের বলে আউট হওয়ার আগে করেন মাত্র ৫ রান। দুর্দান্ত বলে বোল্ড হন ভার্মা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৭ রান তোলেন লোকেশ রাহুল ও শুভমন গিল। ১৭.১ ওভারে দলীয় ৭৪ রানে শেখ মেহেদীর বলে শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাহুল। ৩৯ বলে ১৯ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
২০তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন গিল। ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কার মার।
২৩.৩ ওভারে দলীয় ৯৪ রানে চতুর্থ ব্যাটারকে হারায় ভারত। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন ঈশান কিষাণ। ১৫ বলে ৫ রান করেন। পঞ্চম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ৩২.৪ ওভারে বোল্ড করে ফেরান সূর্যকুমার যাদবকে। ৩৪ বলে ২৬ করেন যাদব।
৩৭.৪ ওভারে দলীয় ১৭০ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে ফেরান মোস্তাফিজ। বোল্ড করে ফেরান ১২ বলে ৭ রান করা জাদেজাকে।
৩৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শুভমন গিল। ১১৭ বলে শতক ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। শতক ছুঁয়ে হাত খুলে মারতে থাকেন ভারতীয় ওপেনার। ৪৩.৪ ওভারে শেখ মেহেদীর বলে লং-অফের উপর দিয়ে উড়াতে গিয়ে ধরা পড়েন তাওহিদ হৃদয়ের হাতে। ১৩৩ বলে ১২১ রানের করেন গিল। ছিল আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
৪৮.১ ওভারে দলীয় ২৪৯ রানে শার্দূল ঠাকুরকে ফেরান মোস্তাফিজ। ১৩ বলে ১১ রানে করে শার্দূল আউট হন মিরাজের ক্যাচ হয়ে। দুই বল পরেই তানজিদ হাসান তামিমে ক্যাচ বানিয়ে অক্ষর প্যাটেলকে ফেরান মোস্তাফিজ। ৩৪ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।
শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন মোহাম্মদ শামি। তানজিম হাসান সাকিব পরপর তিন বল ডট দেন। চতুর্থ বলে লং-দিয়ে চার মারেন শামি। পঞ্চম বলে ফাইন লেগে ঠেলে দিয়ে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন শামি। ২৫৯ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ৬ বলে ৬ রান করেন ভারতীয় পেসার।
বাংলাদেশের হয়ে তিনটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুটি করে উইকেট নেন অভিষিক্ত তানজিম হাসান সাকিব ও শেখ মেহেদী। এছাড়া সাকিব ও মিরাজ নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে শুরুতে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম ও এনামুল হক বিজয়। তৃতীয় ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে কোনো রান না করে বোল্ড হন লিটন। উইকেটরক্ষক ব্যাটারের ব্যাট-প্যাডের মাঝে বড় ফাঁকটা ছিল দৃষ্টিকটু।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা তানজিদ তামিম স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন। তিন বাউন্ডারি মেরে ইনিংস বড় করার আশা দেখান। শার্দূল ঠাকুরের অফ স্টাম্পের বাইরে করা শর্ট বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ব্যাটের নিচের কানায় বল লেগে স্টাম্প উপড়ে যায়। ১২ বলে ১৩ রানে শেষ হয় ইনিংস।
৫.৪ ওভারে শার্দূলের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লোকেশ রাহুলের গ্লাভসবন্দি হন ৪ রান করা বিজয়। ১৪তম ওভারের শেষ বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে অক্ষর প্যাটেলের শিকার হন মিরাজ। ২৮ বলে ১৩ রান করে যান।
৫৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর সাকিব আল হাসানের ফিফটি ও তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে অনবদ্য জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ২৫.৪ ওভারে অক্ষরকে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ৫৫তম ফিফটি পূর্ণ করেন সাকিব। ৬৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা।
ঘুরে দাঁড়ানোর নেতৃত্বে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান সাকিব। ১০১ রানের জুটি গড়ে ৩৩.১ ওভারে দলীয় ১৬০ রানে শার্দূলের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন। ছয়টি চার ও তিন ছক্কায় ৮৫ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন টাইগার অধিনায়ক।
পরের ওভারে জাদেজার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন শামীম। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি সাতে নামা ব্যাটারের। ৫ বলে ১ রান করেন।
৩৯.৪ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। ৭৭ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা ছিল। ৪১.২ ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে তিলক ভার্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। ৮১ বলে ৫৪ রান করেন।
আটে নামা নাসুম আহমেদ দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেরেন ফিফটি ছোঁয়ার আগে। ৪৭.২ ওভারে দলীয় ২৩৮ রানে প্রষিধ কৃষ্ণার বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হন টাইগার স্পিনার। ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৪৫ বরে ৪৪ রান করেন নাসুম।
এরপর অভিষিক্ত তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন শেখ মেহেদী। ২৩ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী, ৮ বলে ১৪ রানে তানজিম।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন শার্দূল ঠাকুর। মোহাম্মদ শামি নেন দুটি উইকেট।








