ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এমন কিছু কণ্ঠ আছে, যেগুলি সময়ের গণ্ডি পেরিয়েও আজও সমান উজ্জ্বল- তেমনই একটি নাম আশা ভোঁসলে। আজ তার প্রয়াণে যে শূন্যস্থান তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হবে না। তার গানের মতোই রঙিন ও বিস্তৃত তার জীবন, যেখানে আছে সাফল্য, সংগ্রাম আর বিস্ময়কর আর্থিক উত্থানের গল্প। বয়স বাড়লেও তার জনপ্রিয়তা, প্রভাব এবং অর্থ-সম্পদের পরিমাণ আজও মানুষকে অবাক করে।
সঙ্গীতের ‘গোল্ডেন এরা’-তে দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ছিল কিংবদন্তী শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। সেই সময় অনেক ক্ষেত্রেই আশা ভোঁসলের ক্যারিয়ার তুলনামূলকভাবে আলাদা পথে এগিয়েছে বলে সংগীত মহলে আলোচনা রয়েছে। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তিনি অনেক গান গাইলেও দু’জনের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান ছিল বলে দাবি করা হয়।
সেই সময় লতা মঙ্গেশকর যেখানে একটি গানের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা পেতেন, সেখানে আশা ভোঁসলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পারিশ্রমিক পেতেন বলে ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
শুরুর দিকে তাকে অনেক সময় ‘এক্সপেরিমেন্টাল গান’ বা নাচের গান দেওয়া হতো। তবে এই সুযোগগুলোই পরে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন এবং প্রমাণ করেন যে তিনি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধরনের গানেই সীমাবদ্ধ নন। পরবর্তীতে তার কণ্ঠে ‘রোমান্টিক’, ‘গজল’ থেকে শুরু করে ক্লাসিক্যাল গান- সবই সমান জনপ্রিয়তা পায়।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আশা ভোঁসলের আর্থিক অবস্থাও যথেষ্ট স্বচ্ছল ছিল। ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়। এই সম্পদের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম ধনী মহিলা গায়িকার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি অনেক সমসাময়িক গায়িকার সমান সম্পত্তির মালিক বলেও উল্লেখ করা হতো।
তার আয়ের বড় একটি অংশ আসে ব্যবসা থেকে। বিশেষ করে তার রেস্তোরাঁ চেইন, যার শাখা দুবাই, আবু ধাবি, বাহরাইন, কুয়েত এবং ব্রিটেনে ছড়িয়ে আছে তার আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই ব্র্যান্ডটি প্রিমিয়াম ভারতীয় খাবারের জন্য পরিচিত।
স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকেও তার অবস্থান বেশ শক্ত। মুম্বাইয়ের পেডার রোডে অবস্থিত ‘প্রভু কুঞ্জ’ অ্যাপার্টমেন্টের বাজারমূল্য কয়েক কোটি। এছাড়া মুম্বাই ও পুনেতে তার আরও কিছু সম্পত্তি রয়েছে।
তবে আর্থিক সাফল্যের থেকেও বড় বিষয় হল গানের জগতে তার অবদান। তিনি বিভিন্ন ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। তার কণ্ঠ আজও ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।







