তুরাগ নদী রক্ষায় শিল্পীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আর্ট ক্যাম্প থেকে বক্তারা বলেছেন, শিল্পীরা সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও জনমানসে শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে তুরাগ নদী দখল ও দূষণের শিকার। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পানির মান বিপর্যয় এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে শিল্পবর্জ্য ফেলে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
বুধবার (৬ আগস্ট) আশুলিয়ার ল্যান্ডিং স্টেশনে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প ‘বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তুরাগ নদী: নদী ও জীবনের উপর জলরঙ’-এর উদ্বোধনীতে এ আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ উদ্বোধনকালে বলেন, রাজধানীর সাতটি খাল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও ড্রেনের পানি খালে না গিয়ে সরাসরি নদীতে যাচ্ছে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সঠিক নিষ্কাশনব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। জলাশয় রক্ষায় আবাসন ও শিল্পের জন্য ভরাট বন্ধে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

নদী ও নৌপরিবহন গবেষক তোফায়েল আহমেদ বলেন, শিল্পীরা পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
নোঙর ট্রাস্ট চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয় থাকা জরুরি। তিনি জানান, তুরাগে ১,৩৯৮ একর জমি দখল হয়ে গেছে; গাজীপুর অংশে ৪৮৯টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে পাকা ভবন, টিনসেড, ইটভাটা, পাওয়ার প্ল্যান্ট, গার্মেন্টস ও ডেইরি ফার্মও আছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তুরাগের তলদেশে ক্রোমিয়াম, কপার, জিঙ্কসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মাছের প্রজাতি কমে গিয়ে ৭১টির মধ্যে অন্তত ১৫টি মহাবিপন্ন হয়েছে।
২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট তুরাগকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সরকার আগামী মে-জুনে উচ্ছেদ, ড্রেজিং, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনসহ দখল ও দূষণমুক্ত করার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
আর্ট ক্যাম্পে ৩০ জন তরুণ শিল্পী অংশ নেন। তারা সোয়ারীঘাট বুড়িগঙ্গা মঞ্চ থেকে যাত্রা শুরু করে বছিলা হয়ে আশুলিয়া বন্দরে পৌঁছান। শিল্পীদের কাজ শিগগিরই প্রদর্শিত হবে।








