প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সমীরণ চৌধুরী আর নেই। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি জানান, গুণী এই শিল্পীর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
সমীরণ চৌধুরী ১৯৬২ সালের ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী ইউনিয়নের উলুকান্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অনিল গোপাল সাহা। ১৯৭৯ সালে নারায়ণগঞ্জের বার একাডেমি থেকে এসএসসি পাস করেন।
১৯৮০ সালে তিনি ঢাকার চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে সেখান থেকেই তিনি ১৯৮৫ সালে বিএফএ এবং ১৯৮৭ সালে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে জলরঙে বিশেষ দক্ষতার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেন।
জলরং ও প্রতিকৃতি শিল্পী হিসেবে সমীরণ চৌধুরী বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারত, জাপান ও নরওয়েসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শিল্পকর্মশালা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। শিল্পজীবনে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে ২২ হাজারেরও বেশি চিত্রকর্ম অঙ্কন করেন। দেশে ও বিদেশে তার ১৮টি একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ প্রদর্শনীতেও অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ইতালি, হল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুইডেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, পর্তুগাল, গ্রিস, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ঘানা ও বুলগেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগ্রহশালা ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে তার শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।
শিল্পী সমীরণ চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৪ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, যা ওই অঞ্চলের শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।







