৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন বিশ্বখ্যাত হেভি মেটাল গায়ক ওজি অসবার্ন। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ব সংগীতে শোকের মাতম! তবে মৃত্যু পরবর্তী সময়েও আলোচনায় উঠে এসেছে ওজির বিতর্কিত অতীত, বিশেষ করে ১৯৮০ সালে নিজের ১৭টি পোষ্য বিড়াল হত্যা করার ভয়াবহ ঘটনাটি।
জানা গেছে, জীবনের একটি দীর্ঘ সময় মাদকাসক্তিতে জর্জরিত ছিলেন ওজি। সেই সময়কার এক ভয়ংকর ঘটনার কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন একাধিক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মাদকে ডুবে ছিলাম। মাদকাসক্তির অন্তিম পর্যায় পৌঁছানোর পরে আমাদের সব বিড়ালকে আমি গুলি করে মেরে ফেলি। ১৭টা বিড়াল ছিল আমাদের। সবাই শেষ হয়ে যায়।’
১৯৮০ সালে প্রথম স্ত্রী থেলমা রাইলির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল ওজির। এর পরে শ্যারন নামের এক নারী ওজি অসবোর্নকে বিয়ে করেন। ৪০ বছরের দাম্পত্য তাদের। দ্বিতীয় বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিড়াল হত্যার ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনার সময় তার বাড়িতে স্ত্রী ছিলেন না। বাড়ি ফেরার পরে শ্যারন দেখেছিলেন, পিয়ানোর নীচে বসে আছেন ওজি। তার এক হাতে বন্দুক, আর এক হাতে ছুরি।
‘ব্ল্যাক সাবাথ’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি শুধু সংগীতেই নয়, টেলিভিশন, ব্যবসা ও বই রচনার ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করেছিলেন।
‘প্রিন্স অব ডার্কনেস’ কিংবা ‘গডফাদার অব হেভি মেটাল’ খ্যাত ‘ব্ল্যাক সাবাথ’ ব্যান্ডের কিংবদন্তী গায়ক ওজি অসবার্ন ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলের শহর বার্মিংহামের একটি শ্রমজীবী পরিবারে ছয় ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ সন্তান হিসেবে বড় হন। শৈশবে ডিসলেক্সিয়ায় ভুগতেন তিনি এবং ১৫ বছর বয়সেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ এবং চুরির দায়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কারাবাসও করেন।
১৯৭০-এর দশকে হেভি মেটাল ব্যান্ড ব্ল্যাক সাবাথ-এর ফ্রন্টম্যান হিসেবে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্যারানয়েড, ওয়ার পিগস এবং সাবাথ ব্লাডি সাবাথ-এর মতো গানগুলো তাকে ও ব্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।
১৯৮২ সালে এক কনসার্টে স্টেজে একটি বাদুড়ের মাথা কামড়ে ধরার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হন। পরে তিনি দাবি করেন, ভেবেছিলেন সেটি খেলনা বাদুড়! শুরুর জীবনে মাদকে আসক্ত হয়ে উশৃংখল জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন ওজি।
পরে জীবনধারায় পরিবর্তন আনেন তিনি। রিয়েলিটি টিভি তারকা হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন।








