চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনগণের সহ্য করার ক্ষমতা সীমাহীন নয়

ধৈর্যশীল হতে পারাটা মানুষের বিশেষ গুণ। জীবনের পরিক্রমায় মানুষ এ গুণটা ধারণ করার চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত। তবে বাস্তবতা আর জীবনবোধের মিলন ঘটাতে গিয়ে অনেক সময়ই  ধৈর্য ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
Reneta June
পরিবার, সমাজ, দেশ সব মিলেই একজন মানুষ নিজেকে পরিচালিত করে তার প্রাত্যহিক জীবনে। সেখানে রাজনীতি, দেশের উন্নয়ন কিংবা সমাজের ভালো মন্দ সব কিছুরই প্রভাব পড়ে। তাই দেশের অবকাঠামোগত আর সমাজের নৈতিকবোধের উন্নয়নের সমন্বয় খুব জরুরি। দুঃখজনক হলেও  সত্যি যে,বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ম্লান করে দিচ্ছে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে।

বিজ্ঞাপন

সাদা চোখে যা ভালো তার আড়ালের মন্দগুলো বেদনাদায়ক হয়ে বিঁধছে বিবেকের বিচারে।আর এ মন্দের দায়ভার কোন একক ব্যক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না। বরং সারা জাতির কাছে প্রশ্নবোধক। এটা গোটা দেশের কাছে কতটা লজ্জাজনক তা একবার চিন্তা করে দেখা উচিত।
বলা হয়ে থাকে,’ শিক্ষক হলেন মানুষের দ্বিতীয় জন্মদাতা।’ কারণ মানুষের জ্ঞানের আলো বিকশিত হয় শিক্ষকের হাত ধরে। শিক্ষার আলো ব্যতীত মানুষ অন্ধ। অথচ যে শিক্ষকের কাছ থেকে জীবনের মূল্যবোধের জ্ঞান আহরণ করা হয়, সেই শিক্ষককের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হচ্ছে এখন। আবার নিজের আক্রোশে মাস্তানি কায়দায় হত্যা করছে ছাত্র শিক্ষকে।এখানেই  শেষ নয়। মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করা হয় শিক্ষকের নামে। এ ধরনের নীতিহীন কাজ যারা করে তাদেরকে কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। আর মেনে নেয়াটাও হবে অন্যায়।
সব কিছুতেই  ‘আমরা ভালো আছি ‘ এ মিথ্যা ভান জাতিকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ভাবনার দায়িত্ব যেমন জনগণের আছে তেমনি সরকারের ও। খেয়ে পরে নিজে ভালো থাকার চেষ্টায় আজকাল আর সাধারণ মানুষ কথা বলে না রাজনীতি বা দেশ নিয়ে। সব কিছুতেই বাহবা দেবার প্রবনতাতে অন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এতে করে যে আগামীর বাংলাদেশ নৈতিকতা শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে তা বুঝেও না বুঝার ভান করছে সবাই।
আজকাল স্কুল কলেজে বড় ভাই, কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম দিয়ে ছেলে মেয়েদের বুলিং করার প্রবণতা যেমন বাড়ছে ; তেমনইভাবে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হবার বিষয়টি লক্ষনীয়। শিক্ষার মানকে বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা শুধু বইয়ের সিলেবাস আর পরীক্ষাতে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।জাতিকে উন্নত করতে হলে আগামী প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষাটা সঠিকভাবে দিতে হবে। তা না হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিষয়টা হারিয়ে যাবে ক্রমশ।
রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা সবার এক হয় না তা চিরন্তন সত্য। আবার একটা  রাজনৈতিক মতাদর্শ দিয়ে দেশের সব খাতকে প্রভাবিত করা গনতান্ত্রিক ভাবনা নয়।তাই বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষক সমাজ যদি তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে ব্যক্তি চিন্তায় সীমাবদ্ধ রাখে তবে সেটা সমাজের জন্য উত্তম।কারন এ সময়ে দেশের রাজনীতিতে যুবসমাজের রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহনের চেয়ে অর্থনৈতিক বা পেশিশক্তিতে আকর্ষণ বেশি। এখন কেউ আর রাজনৈতিক কর্মী  নয়, সবাই নেতা। রাজনীতিকে যখন অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার মনে করে, তখন সেখানে সত্যিকারের রাজনৈতিক আদর্শ হয় কেবল মুখের বুলির।
বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত  করাকে দেশের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু স্বপ্ন করে রেখেছেন তা কিন্তু  নয়। তিনি বাস্তবতাতে  বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা চাইলে সব পারে এ কথাটা। যার প্রমাণ’ পদ্মা সেতু।’ এমন একজন নেত্রীর পথ চলার সারথি হয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে মানসিকভাবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে মানবিক ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে। সবসময় মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়,কিন্তু দলের নৈতিক আদর্শ চিরকাল একই থাকে। আর জনগণ দলের পাশে থাকে নেতা ও কর্মীদের কাজের মাধ্যমে।
ক্ষমতার দাপটের করুণ পরিণতির ইতিহাস এদেশের রাজনীতিতে উদাহরণ হয়ে আছে অনেক। জনগণের ধৈর্য আর সহ্যের সীমাকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেলে তা কোন সুফল বয়ে আনে না। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মানুষের রাজনীতি এখন কেবল মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির টক শো বা বক্তৃতাতে সীমাবদ্ধ। আসলে মনের ভেতরের সুপ্ত আগুন দাবিয়ে রাখার কারণ আছে যথেষ্ট মানুষের। জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষরা দুর্নীতি আর অন্যায়ের কাছে সুবিচার পায় না। রাজা আর প্রজার শোষক ও শোষিতের সম্পর্ক নতুন কোন গল্প নয়।
তবে যুগ বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবনায় যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সেখানে শুধু মুখের বুলিতে পরিবর্তন আসবে না।দেশের উন্নয়নকে সত্যিকারের উন্নততে রূপ দিতে হলে জনগণের সহ্য সীমার পরীক্ষা  না নিয়ে পরিবর্তন আনতে মুক্তচিন্তার মানবিক ভাবনায় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে নৈতিকতার মূল্যবোধের। তা না হলে জনগণের ধিক্কার ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি ঘটবে কতিপয় ব্যক্তির কারণে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)