২০১৪ বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাত-পা হারান ফেনীর আবদুল মতিন। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো আন্দ্রেস ক্যাফিয়েরো বাংলাদেশ সফরে এলে মতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান মতিন। জানিয়েছেন, আর্থিক কষ্টে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের কথা ভেবে কোন সহযোগিতা চাননি তিনি।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আব্দুল মতিনকে সাক্ষাতের জন্য ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। মতিন ঢাকায় এসে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তাকে মেসির অটোগ্রাফযুক্ত একটি জার্সি উপহার দেয়া হয়।
সান্তিয়াগোর সঙ্গে দেখা করা নিয়ে মতিন বলেছেন, ‘ইমেইলে আর্জেন্টিনা সরকারের আমন্ত্রণ পাই। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ করে ঢাকায় যাই। আর্জেন্টিনা দূতাবাসে গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনার জার্সি ও আর্জেন্টাইন মিষ্টি উপহার দেন। কর্মকর্তা সেখানে আমার কোনো চাওয়া আছে কিনা জানতে চায়। আমি গরীব ঘরের সন্তান হলেও বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মানের বিষয়টি ভেবে কোন আর্থিক সহযোগিতা চাইনি।’
‘আর্জেন্টিনা সরকার নিজ উদ্যোগে আমাকে আর্জেন্টিনায় নিয়ে গেলে অথবা কোন উপহার দিলে তা গ্রহণ করবো। আমি তাদের সামনে নিজের দেশকে ছোট করিনি। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার পরিবারের জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।’
দুর্বিষহ স্মৃতি স্মরণ করে মতিন বলেছেন, ‘২০১৮ সালের ২৮ মার্চ লক্ষ্মীপুর আজিম শাহ মার্কেটের তিন তলা ছাদের উপরে এলুমিনিয়াম পাইপ দিয়ে পতাকা টাঙাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে পাইপটি লেগে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি দেয়ালে গিয়ে পড়ি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।’
‘অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়। ২৭ দিন আইসিইউতে ছিলাম। সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা চলছিল। ইনফেকশন হয়ে যাওয়ায় হাত-পা কোনটাই রক্ষা করা যায়নি, কেটে ফেলে দিতে হয়। পুরো চিকিৎসায় ৭-৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ব্যবসা-দোকান সব হারিয়ে এখন আমি শূন্য।’
ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন। পঙ্গুত্ব মেনে এলাকাবাসী ও স্বজনের সহযোগিতায় পরিবার নিয়ে দিন পার করছেন। এলাকাবাসীর কিনে দেয়া ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি আধুনিক হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ না থাকায় কষ্টে দিন কাটে মতিনের।
আর্জেন্টিনা ভক্ত মতিনের আর্থিক দৈন্যদশা কাটিয়ে তুলতে এবং তার পাশে দাঁড়াতে সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।








