বিষাদকে দীর্ঘদিন ধরে মানবজীবনের বৈশিষ্ট্য বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। অর্কা বা ঘাতক তিমি থেকে শুরু করে কাক পর্যন্ত অনেক পশুপাখিই তাদের সন্তান ও সঙ্গীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে।
সম্প্রতি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেটের একটি উপকূলের লোকজন। সৈকতের কাছেই চোখে পড়ে এক মা অর্কা (কিলার হোয়েল বা এক জাতীয় তিমি) তার মৃত নবজাতক সন্তানকে ক্রমাগত ঠেলে নিয়ে চলছে।
গবেষকদের কাছে ‘তালেকোয়া’ নামে পরিচিত ওই ঘাতক তিমি। তাকে এর আগেও একইভাবে শোক পালন করতে দেখেছিলেন সেন্টার ফর হোয়েল রিসার্চের কর্মকর্তারা।

২০১৮ সালে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর পর টানা ১৭ দিন ধরে তাকে ঠেলে নিয়ে শোক পালন করতে দেখা যায় তালেকোয়াকে। দিনে গড়ে ১২০ কিলোমিটার সাঁতরাতে পারে এই প্রজাতির তিমি। তবে তিমিই যে একমাত্র প্রজাতি যারা নিজেদের মৃত সন্তানের দেহ বহন করে শোক পালন করে, এমনটা নয়।
২০২১ সালে এডিনবার্গের চিড়িয়াখানার এক রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানকার এক শিম্পাঞ্জি মৃত শিশুর জন্ম দেয়। লিয়ান নামে ওই শিম্পাঞ্জি এই ক্ষতি মেনে নিতে পারেনি, সে তার মৃত সন্তানকে ছাড়তেও চায়নি। চিড়িয়াখানার ভেতরেই সন্তানের মৃতদেহ কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে।

‘বুদ্ধিমান’ হিসেবে বিবেচিত স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন ও বানরকেও একই ধরনের আচরণ করতে দেখা গিয়েছে।
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলসফি অফ কগনিটিভ সায়েন্সের বিশেষজ্ঞ গবেষক বেকি মিলার ব্যাখ্যা করেছেন, “প্রাণীদের এই আচরণকে শোকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার না করতে পারাটা কঠিন। মানুষ হিসেবে আমরা যখন কাছের কাউকে হারাই তখন যে কোনোভাবেই তাকে আঁকড়ে থাকতে চাই। প্রিয়জনের সঙ্গে বন্ধনটা ধরে রাখার যে আকুতি, মূলত এটাই এখানে স্পষ্ট হয়।”
মিজ মিলারের মতে, পশুপাখিদের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন নয় যে তাদের কোনো স্বজনের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা মৃত্যুর বিষয়টা অনুধাবন করতে পারছে না।
বেকি মিলার ব্যাখ্যা করেন, “এই সব ক্ষেত্রে এমন একটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যেটা থেকে পশুপাখিরা বেরিয়ে আসতে পারে না। যে ক্ষতির সম্মুখীন তারা হয়েছে সেটার সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করছে, আবার অন্যদিকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে।”







