বিনোদন

এসআরএফটিআইয়ে সংঘর্ষ: প্রতিবাদে সরব অনুরাগ-সৃজিতরা

এসআরএফটিআইয়ে সংঘর্ষ: প্রতিবাদে সরব অনুরাগ-সৃজিতরা

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) শিক্ষার্থী ও অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক তারকা। রবিবার এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, সৃজিত মুখার্জী, অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী, ঋদ্ধি সেন, নির্মাতা-অভিনেতা কমলেশ্বর মুখার্জী, সুদেষ্ণা রায়, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য, সুব্রত সেন ও কৌশিক গাঙ্গুলীসহ অনেকে।

এসআরএফটিআই শিক্ষার্থী ইউনিয়নের একটি বিবৃতি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে অনুরাগ কাশ্যপ লেখেন, ‘বাংলায় ভোট চুরি করার কারণ এটাই ছিল। এটা তো সবে শুরু, আরও অনেক কিছু হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুরাগের এমন সমালোচনার সাথে সহমত জানিয়েছেন বহু মানুষ। অনেকেই তার পোস্টটিও শেয়ার করেছেন।

এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের ভেতরের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ ও প্রশাসনের উচিত দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা।’

অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীও ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘পড়াশোনা না করেই যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেট টপকে ঢোকার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, তারা সংস্কৃতিবিহীন ও অশিক্ষিত তো বটেই, অনেকাংশেই গুন্ডা।’

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েতের মতো একটি সংগঠন কীভাবে এসআরএফটিআইয়ের অডিটোরিয়ামে সভা করার অনুমতি পেল। শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করার সাহস তারা কোথা থেকে পেল? সেই প্রশ্নও তোলেন ঋত্বিক। সভার অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভূমিকা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

নির্মাতা ও অভিনেতা কমলেশ্বর মুখার্জী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত একটি সরকারি চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন বা শিল্পকলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই- এমন একটি সংগঠনকে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হলো কীভাবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা হলো কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কমলেশ্বর। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ঋদ্ধি সেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, সত্যজিৎ রায় বা উত্তম কুমারের শতবর্ষ উদযাপনে যারা অংশ নিচ্ছেন, তারা শতবর্ষ পর চলচ্চিত্রের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন প্রতিবাদ করছেন না।

ঋদ্ধি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় না থেকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের রক্তের চিহ্ন রয়েছে ছবিতে। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আর কত মারবি? আর কত ভয় দেখাতে পারবি? কাদের মেরে দুনিয়া জয় করবি? সব হিসাব হবে।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার সুব্রত সেনও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসআরএফটিআইয়ে যা ঘটেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও দৃশ্যশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সামনে এসে প্রতিবাদ করার এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

নির্মাতা সুদেষ্ণা রায় বলেন, এসআরএফটিআইয়ে যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী বলেন, এফটিআইআই ও এসআরএফটিআই ভারতের চলচ্চিত্র শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে এর আগে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। তবে রবিবারের ঘটনা সেই ধরনের নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কৌশিক গাঙ্গুলী প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা ভাড়া দেওয়ার আগে সেখানে আয়োজিত কর্মসূচির সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক বা প্রাসঙ্গিকতা আছে কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সাধারণ অনুষ্ঠানস্থলের মতো ভাড়া না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

বিষয়:অনুরাগ কাশ্যপঅভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীঋদ্ধি সেনকৌশিক গাঙ্গুলীনির্মাতা-অভিনেতা কমলেশ্বর মুখার্জীপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…