কর্মক্ষেত্র এফডিসিতে বহুবার এসেছেন। শিল্পী সমিতি কর্তৃক যে কোনো আয়োজনে তার উপস্থিতি থাকতো সরব। আজও তিনি এফডিসিতে আসেন। তবে একেবারে ভিন্ন চেহেরায়, ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং জীবনে শেষ বারের মতো!
হ্যাঁ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী অঞ্জনা শেষ বারের মতো এফডিসিতে গিয়েছিলেন শনিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে। সেখানে তার অপেক্ষায় ছিলেন সহকর্মীরা। এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরসহ অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ও এফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারিরা।
অঞ্জনার মরদেহ সামনে রেখে এসময় তার উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করেন উপস্থিত সহকর্মী অভিনেতা অভিনেত্রীরা। পরে সেখানেই হয় প্রথম নামাজে জানাজা। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন অঞ্জনা। এরপর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ এফডিসি থেকে রওনা হয় চ্যানেল আইয়ের উদ্দেশে।
জানা যায়, চ্যানেল আই চত্বরে হবে নায়িকা অঞ্জনার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী কবরস্থানে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিন শতাধিক সিনেমার এই গুণী অভিনেত্রী।
১৯৮১ সালে ‘গাংচিল’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন অঞ্জনা। এছাড়া তিনি মোহনা (১৯৮৩), পরিণীতা (১৯৮৬) এবং রাম রহিম জন (১৯৮৯) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একজন নামী নৃত্যশিল্পী ছিলেন। অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত দস্যু বনহুর (১৯৭৬)। রহস্য ভিত্তিক এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সোহেল রানা।
১৯৭৮ সালে তিনি আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে লাইলি চরিত্রে অভিনয় করেন। রাজ্জাকের বিপরীতে তিনি ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ , মিঠুন চক্রবর্তী, (ভারত) ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্নার মতো তারকা নায়কদের সাথে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর পিজি হাসপাতালে বিগত তিন দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন অঞ্জনা। তার আগে ২৪ ডিসেম্বর নায়িকা অঞ্জনাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার জ্বর ছিল।
পরে চিকিৎসকরা জানান, তার ব্লাড ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। এর ফলে হার্ট ও কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়। ফুসফুসে পানি জমেছে। এর মধ্যে স্ট্রোকও হয় একবার। শুক্রবার দিনগত রাত ১টা ১০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।








