বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা ভেস্তে না গেলে চতুর্থ দিনেই আসতে পারত ফলাফল। ওভালে পঞ্চম দিনেও চোখ পাকাচ্ছিল বৃষ্টি। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় লড়াই। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৫ রান, ভারতের দরকার ছিল রুটদের হাতে থাকা ৪ উইকেট। দিনের শুরুতে উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা, জয়ের খুব কাছে থেকে ফিরেছে অলি পোপবাহিনী। মোহাম্মদ সিরাজ-প্রসিধ কৃষ্ণার তোপে তাদের ৬ রানে হারিয়ে জয়ের সাথে সিরিজ ড্র করে ফিরছে শুভমন গিলের ভারত।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি সিরিজে পাঁচ টেস্টের প্রথমটিতে ৫ উইকেটে জিতে শুরু করে ইংল্যান্ড। পরের টেস্টে ৩৩৬ রানের বড় জয়ে সমতায় ফেরে ভারত। তৃতীয়টিতে ২২ রানে জিতে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, চতুর্থ টেস্ট ড্র হয়। পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি ভারতের জন্য সিরিজ বাঁচানোর ছিল, ইংলিশদের জন্য ছিল সিরিজ জয়ের, অঘোষিত সেই ফাইনালে জিতে নিলো রোহিত-কোহলিদের ছাড়া নতুন ভারত!
ওভালে টসে হেরে আগে ব্যাটে নেমে ভারতের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ২২৪ রানে। জবাবে ইংলিশরা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৪৭ রানে। ২৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৩৯৬ রান তোলে ভারত। স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৪ রানের। তাড়ায় নেমে জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়ার পথে থেকেও শেষঅবধি পেরে ওঠেনি ইংল্যান্ড।
ভারতের দেয়া ৩৭৪ লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১ উইকেটে ৫০ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনে একাধিকবার হানা দেয় বৃষ্টি। খেলা হয় ৭০.৩ ওভার। ইংলিশরা যোগ করে ২৮৯ রান, হারায় ৬ ব্যাটার। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩৩৯ রান দাঁড়ায়।
পঞ্চম দিনে জেমি স্মিথ ও জেমি ওভারটন দিনের খেলা শুরু করেন। শুরুতেই মোহাম্মদ সিরাজ ফিরিয়ে দেন ২ রান করা জেমি স্মিথকে। বেশি সময় টিকে থাকতে পারেননি ওভারটনও। সিরাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৯ রানে ফিরে যান। সেখান থেকে জয়ের আশা জাগান গাস অ্যাটকিনসন। অন্যপ্রান্তে শূন্য রানে জশ টাং ফিরে গেলে স্বপ্ন বুনতে থাকে ভারত।
কাঁধে গুরুতর চোট নিয়ে নামা ক্রিস ওকস ব্যাটে এলেও এক হাতে কোন বলের সম্মুখীন হননি। অন্যপ্রান্ত থেকে শুধু অ্যাটকিনসই খেলে চলেন। শেষপর্যন্ত ১৭ রান করে তিনি আউট হন, ৩৬৭ রানে থামে ইংল্যান্ড। ৬ রানে জয় পায় ভারত।
ভারতের হয়ে সিরাজ ৩০.১ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন সিরাজ, ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। কৃষ্ণা শিকার করেন ৪ উইকেট এবং আকাশ দীপ নেন একটি উইকেট।
৩৭৪ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ভারতকে হারাতে পারলে দুটি কীর্তিতে নাম লেখাত ইংল্যান্ড। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এক সিরিজে দুবার ৩০০ পেরিয়ে জয়ের কীর্তি গড়ত। প্রথম টেস্টে লিডসে ভারতের দেয়া ৩৭১ রান ৫ উইকেটে তাড়া করেছিল তারা।
পাশাপাশি ১২৩ বছর আগের একটি রেকর্ড ভাঙার পথে ছিল ইংল্যান্ড। প্রথমবার ওভালে ৩০০ রানের বেশি তাড়া করার রেকর্ড গড়া হতো তাদের। ১৯০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৬৩ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা। এসবের সবকিছুই মলিন করে দিয়েছে গিলের ভারত।








