জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই আশ্বাসের পর কোটা সংস্কার আন্দোলন বলতে গেলে অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। তবে সেই আন্দোলন নতুন করে আবারও আলোচনায় আসছে। শনিবার ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা’র কারণে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তারা বলছেন: ‘শনিবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিতব্য সংবাদ সম্মেলনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের মেরে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। হামলায় কমপক্ষে ৫/৬ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।’
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন কোটা পদ্ধতি থাকবে না, তারপরও একটি দল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা কয়েকজন মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে তারা রাজনীতি চর্চার জায়গা বানিয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকুক। তাই তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছে।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে আমরা এর আগে দুই পক্ষের পাল্টা-পাল্টি অবস্থান দেখেছি। উভয় পক্ষের প্রতিহতের ঘোষণা কতোটা ভয়ংকার হতে পারে তাও কারো অজানা নয়। এই আন্দোলনের জেরেই কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে তাণ্ডব ঘটেছে। ওই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনোই কারো কাম্য নয়।
আজকের হামলায় আমরা কিছু অতি উৎসাহীদের অংশ নিতে দেখেছি। যাদের কোনো শুভ উদ্দেশ্য ছিল না। এটা ঠিক প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়ার টেবিলে ফিরে গেছে। ঠিক সেভাবে এ ঘোষণা নিয়ে তাদের প্রত্যাশিত প্রজ্ঞাপন হতে অনেকটাই সময় পার হয়েছে। কিন্তু তারপরও সুযোগ ছিল দুইপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের। অার এরজন্য দুইপক্ষের মধ্যে একটা মাধ্যম থাকা দরকার ছিল। যে মাধ্যম দুইপক্ষকেই প্রজ্ঞাপন বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি অবহিত করতে পারতো।
কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম সেই মাধ্যমটি নেই। অার নেই বলেই অাজকে এই ধরনের ঘটনা ঘটলো। আমরা মনে করি সরকার এবং অান্দোলনকারীদের মধ্যে সঠিক যোগাযোগের অভাব রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যে আগুন নিভিয়েছেন, তাতে ছাত্রলীগের নাক গলানো উচিৎ হয়নি। এভাবে হামলা চালানোর কোনো প্রয়োজনও ছিল না।
অামরা চাই আলোচনার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির সমাধান হোক। এ নিয়ে কোনো সহিংসতা কারো জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনবে না। কেননা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।








