অস্ট্রেলিয়া থেকে: মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি জঙ্গি দমন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সন্দেহজনকভাবে আটক বৈধ-অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আইনী সহায়তাসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বৈদেশিক কর্ম সংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ধরপাকড়সহ সবধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার মন্ত্রনালয় সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিষয়টি আমার নলেজে আছে। সমস্যা সমাধানে মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সৌদি আরব সরকারের নেয়া নতুন পদক্ষেপের ফলে ২০২০ সালের মধ্যে শ্রমিকসহ নানা পেশার বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিষকে দেশে ফিরতে হবে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার মন্ত্রনালয় বা সরকারের প্রস্ততি জানতে চাইলে বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি’। ।
এসময় অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ানরা বাংলাদেশে থেকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেয়া পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারেন না কেন মন্ত্রীকে এমন প্রশ্ন করা হয় অস্ট্রেলিয়া কমিউনিটির পক্ষ থেকে ।
এর উত্তরে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘এধরনের সুবিধা পেতে হলে দুদেশের মধ্যে চুক্তি থাকতে হয় । যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার শুধু সেসব দেশের দ্বৈত নাগরিকদের এমন সুবিধা দিয়ে থাকে। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় অনেক সময় সরকারের নেয়া কল্যাণমুখী সেবার আওতায় তাদের আনা সম্ভব হয় না। সকল প্রবাসীর তথ্য ডাটা বেইজ অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে সেবার পরিধি বাড়বে।
মন্ত্রী সবাইকে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ডাটা বেইজে অন্তর্ভুক্তি হলে প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, দেশে মৃতদেহ পাঠানো ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের দেশে ফিরতে সাহায্য করাসহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হবে। আর সে কারনে তার মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ নিহত শহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।








