পবিত্র রমজান উপলক্ষে ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের এক কোটি মানুষের মাঝে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি। সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও বৃহত্তর পরিসরে তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা সময় বলে দেবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি নিত্যপণ্য তথা তেলের দাম বেড়ে যাবার কারণ হিসেবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। সেইসঙ্গে আমদানী নির্ভর অর্থনীতির মারপ্যাঁচকেও দায়ী করেছেন। কিন্তু তিনি বাজারে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে খুব একটা জোরালো কিছু বলেননি।
আরেকটি সংবাদ গতদিন বেশ আলোচিত ছিল। সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই দাম মিলগেট বা পাইকারি পর্যায়ে কার্যকর হলেও খুচরা পর্যায়ে ক্রেতাদের মধ্যে কার্যকর হতে আরও পাঁচ-ছয় দিন সময় লাগবে। তারমানে এই ঊর্দ্ধমুখী চক্র থেকে সহসাই বের হতে পারছে না জনগণ!
গত কয়েকবছর হলো পবিত্র রমজান মাসের বেশ আগে নিত্যপণ্যের দাম মারাত্মক হারে বেড়ে যায়, আর রমজান মাসে এসে তা স্থির থাকে। নয়তো ১/২ টাকা কমে আলোচিত হয় যে, রমজানে মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে বা দাম কমেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক বলে আমরা মনে করি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনপ্রতিনিধি তথা মন্ত্রী-এমপিদের অতিকথন বা অপ্রয়োজনীয় অনেক কথা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তারা কখনো বেশি খাওয়া, নয়তো বেশি করে পণ্য কেনার জন্য জনগণকে দায়ী করে। যার কারণে অনেকসময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ ঢাকা পড়ে যায়। জনগণকে বিপদে ফেলা অসাধু চক্র তাদের স্বার্থসিদ্ধি করে সহজেই। এই দিকে সরকার তথা সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া দরকার।
টিসিবির মাধ্যমে মাত্র এক কোটি মানুষের চাহিদা পূরণই যথেষ্ট না বলে আমরা মনে করি। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্দ্ধমুখীতায় বোবা কান্নার মুখে থাকা আরও কোটি কোটি মানুষের জন্যও ভাবতে হবে। ভ্যাট কমিয়ে, সুবিধা দেবার পরেও কেনও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না, সেবিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ একান্ত জরুরি।







