ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মহাসড়কে ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ দিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চার্জিং স্টেশন স্থাপন করবে তেল-গ্যাস জায়ান্ট কোম্পানি রয়েল ডাচ শেল। এ লক্ষ্যে কিছু গাড়ি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা।
ইতিমধ্যে বিএমডব্লিউ, ফোর্ড ও ফক্সওয়াগনের জোটের সঙ্গে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ কোম্পানি শেলের চুক্তিটি সই হয়েছে। শেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আয়োনিটি প্রযুক্তির কল্যাণে ৩৫০ কিলোওয়াট চার্জ গ্রহণে সক্ষম গাড়িগুলো পুরোপুরি চার্জ হতে মাত্র ৫ থেকে ৮ মিনিট সময় লাগবে। যেখানে গতানুগতিকভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
প্রাথমিকভাবে বেলজিয়াম, ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়াতে ৮০টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।
চুক্তির পরে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন দেশের মহাসড়কে ৮০টি উচ্চশক্তিচালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। ফ্রান্সের এনজি ও জার্মানির ই.অনের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান চার্জপয়েন্টের মতো কোম্পানিগুলোও ইউরোপজুড়ে গাড়ি চার্জ হওয়ার নেটওয়ার্ক স্থাপন করছে। শেলের আশাবাদ যাত্রাপথের দূরত্বে গাড়ি চার্জ করার মতো সমস্যা সমাধানে তাদের এই আয়োনিটি প্রযুক্তি খুবই কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক গাড়িবাজারে ইলেকট্রিক গাড়ি এখনো খুব বেশি জায়গা দখল করতে পারেনি। তবে পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বাহনের দিকে ঝুঁকছে গোটা বিশ্ব। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধির গতি এবং লম্বা সময় ধরে ক্রুডের দাম কম থাকায় শতাব্দী পুরনো ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের কথা ভাবছে তেল কোম্পানিগুলো।
শেল আশা করছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক গাড়িবহরে ইলেকট্রিক যানবাহনের দখল ১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে। এর ফলে দৈনিক তেলের চাহিদা আট লাখ ব্যারেল করে কমবে।
ইউরোপজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ করার পয়েন্টের সংখ্যা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় তিনগুণ হয়ে ১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। তবে ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্তহারে চার্জিং স্টেশন না থাকা ও চার্জ গ্রহণে লম্বা সময় লেগে যাওয়ার কারণে ইলেকট্রিক গাড়িচালকদের স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের মধ্যেই আটকে থাকতে হয়।







