সান্ত্বনা নারী বা ‘কমফোর্ট উইমেন’ শব্দটি সাউথ কোরিয়ার ওই সকল নারীদের বলা হতো যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিদের দ্বারা যৌন দাসত্বে বাধ্য হয়েছিল। জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনেরও অবসান হলেও এই নারীরা মুক্ত হতে পারেনি আজও। পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর কোরিয়ান এবং আমেরিকান সৈন্যরা যৌন নিপীড়ন অব্যাহত রাখে।
গত বছর সাউথ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে ১০০ ‘কমফোর্ট উইমেন’কে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখন এসকল ভুক্তভোগীরা তাদের মামলাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যদিও তাদের আইনি কৌশল অস্পষ্ট। তাদের একজন বলছেন, ‘আমেরিকানদের জানা দরকার তাদের কিছু সৈন্য আমাদের সাথে কি করেছে।’
১৯৭৫ সালে দেহব্যবসা পরিচালনা করেন এমন একজন পিম্পের কাছে বিক্রি হয়েছিলেন পার্ক জিউন এ। তখন জিউনের বয়স ছিল ১৬ বছর। তিনি এমন আরেকটি গ্রুপ থেকে প্রচণ্ড মারধর এবং অন্যান্য নির্যাতন সহ্য করতেন। মূলত তিনি এবং তার মতো আরও যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা চাইছেন আমেরিকানরা তাদের সাথে হওয়া নির্যাতনের কথা জানুক।
দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তার সামরিক জোট বজায় রাখতে এবং আমেরিকান ডলার উপার্জন করতে পতিতাবৃত্তিকে ‘ন্যায্যতা এবং উত্সাহিত’ করেছে। যার ফলে সরকারকে দোষী বলেও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত সরকারকে ‘পরিকল্পিত ও সহিংস’ উপায়ে নারীদের আটক করার জন্য এবং যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করার জন্য দায়ী করে।
‘কমফোর্ট উইমেন’ সংখ্যা: ১৯৬১ সালে জিওংগি প্রদেশের স্থানীয় সরকার অনুমান করে যে সিউলের আশপাশের জনবহুল এলাকায় ‘কমফোর্ট উইমেন’র সংখ্যা ১০ হাজার ছিল, যা সময়ের সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যারা আমেরিকান ৫০ হাজার সৈন্যকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বলা হচ্ছে, এই নারীদের মধ্যে অধিকাংশই আমেরিকান সামরিক ঘাঁটির আশপাশে নির্মিত গিজিচন বা ‘ক্যাম্প টাউনস’-এ কাজ করছেন।








