রাজধানীতে বাগবিতণ্ডার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানকে গাড়িতে তুলেছে পুলিশ।
শনিবার ২৯ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর গাবতলী থেকে তাকে পুলিশের জিপে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেক বাস স্ট্যান্ড এলাকায় আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ওই সময় তাদের চারপাশে ছিলেন পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সড়কে অবস্থান নেয়ার পর পুলিশের সঙ্গে অন্তত ১০ মিনিট বাগবিতণ্ডা চলে আমান উল্লাহ আমানের। ওই সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান বলেন, ‘আমি চারবারের এমপি ছিলাম। আমি জানি কোন আইনে কী করতে হয়।’
‘আমরা আইন মেনেই এখানে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কোনো সড়ক অবরোধ করি নাই।’
বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আমানের পাশে বিএনপির ৮ থেকে ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে আমানকে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে চাইলে সড়কে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান তিনি।
ওই সময় পুলিশের এক সদস্য তাকে বলেন, ‘এখানে মিডিয়ার সামনে আপনি অভিনয় করবেন না প্লিজ। আপনি আমাদের গাড়িতে উঠুন।’
পুলিশের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমান কোনো সাড়া না দেয়ায় তাকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় এক পুলিশ সদস্য বলেন, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আমানকে গাড়িতে ওঠানোর সময় সাঁজোয়া যান, জলকামান নিয়ে সড়কে বিপুলসংখ্যক বিপুল সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এদিন গাবতলীতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি চলছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির।
বিএনপির ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান কর্মসূচির একই দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে।
ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই শক্ত অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীও রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। ইতোমধ্যে রাজধানী জুড়ে টহল, চেকপোস্ট, তল্লাশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে বলে প্রত্যাশা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পথ আটকাতে দেবো না। কেউ সেই চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, মিরপুর, তেজগাঁও, লালবাগ, ওয়ারী, উত্তরা বিভাগের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা কর্মসূচি ঘিরে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তৎপর থাকবেন গোয়েন্দারাও।








