রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকাতে দাফন সম্পন্ন হয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার। শেষ বিদায়েও তাকে দেখতে না আসায় নেটিজেনদের কাছে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন আলভী।
এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই অভিনেতা। সোমবার সন্ধ্যার পর নিজের ফেসবুকে প্রায় আধ ঘণ্টার একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তৈরী হওয়া সব প্রশ্নের উত্তর দেন আলভী।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেন, “কথাগুলো শুনবেন এবং প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করবেন।” প্রথমেই তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘গল্পের একটা পাতা পড়েই জাজ করতেছেন, গল্পের একটা পাতা পড়েই আপনারা মনের মতো যা ইচ্ছা বলতেছেন। কিন্তু পাতার এক পাশ পড়বেন, অন্যপাশ পড়বেন না; তা তো হয় না।”
এর পরেই তিনি বলেন,“আমি আসলে সবকিছু গুছিয়ে বলার মতো পরিস্থিতিতে নাই। আপনাদের কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমি ভিডিওটি করছি।”
এরপর আলভী বলেন,“আপনাদের শেষ প্রশ্ন থেকেই শুরু করছি। আপনারা বলছেন, যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, মরে গেল- শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! এই যে আপনাদের প্রশ্নটা, আচ্ছা, আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রাখছেন? হ্যাঁ? আমি দেশে আসার পরই আমার উপর মব তৈরী হবে, আমি দেশে আসা মাত্রই আপনারা আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলবেন, আমার ফোনে এরকম এতো এতো থ্রেটস। আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না।”
এ বিষয়ে আলভী আরো বলেন, “আমার কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, আমি দেশে আসলে বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে। আমি আসা মাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে ঠিকাছে, আমি সেটা আইনিভাবে মোকাবেলা করবো। কিন্তু এখন যদি আমিও মারা যাই, রিজিকের মায়ের কাছে চলে যাই- তাহলে রিজিকের কী হবে?আপনারা কি চান রিজিক তার বাবাকেও হারাক? এই ছেলেটার কী দোষ? সে কীভাবে বড় হবে? মাও থাকবে না, বাবাও থাকবে না- আপনারা এটা চান? ইকরার শেষ মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেন নাই, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেখতে দেয় নাই।”
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে অভিনেতা বলেন, “১৬ বছর ইকরার সাথে সংসার করছি। একটা মানুষ যদি তার শত্রুর সাথেও ১৬ বছর সংসার করে, এক ছাদের নিচে থাকে- সে মারা গেলে তাকে দেখার জন্য ছটফট করে। আর সে আমার বউ ছিলো, ভালোবেসে আমরা বিয়ে করছি। সে মারা গেছে, শেষবারের মতো তার চেহারা আমি দেখবো না?”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। সেসময় আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন। ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান আলভী।
ফেসবুক পোস্টে আলভী লেখেন,“মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।” স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়া এই অভিনেতা আরও বলেন,“আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।”
গণমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আলভী লেখেন,“আমাকে একটু সময় দিন। আমি দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছি, ফিরে সবার সাথে কথা বলব। ততক্ষণ পর্যন্ত এই শোকের মুহূর্তে আমাকে এবং আমার পরিবারকে একটু মানসিক স্বস্তি দিন। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হলেও দয়া করে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না।”
যদিও ততক্ষণে আলভীর বিরুদ্ধে উঠতে থাকে নানা অভিযোগ। বিশেষ করে ইকরার পরিবার অভিযোগ করেন, আলভী অন্য একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর জন্যেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের শুরু। যে কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
পরে এই বিষয়ে ইকরার পরিবার আলভী ও তার মাসহ বেশ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করে।







