ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আসন্ন পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এসব তথ্যের একটি বড় অংশই ‘যাচাইযোগ্য নয়’ বা ‘আংশিকভাবে বিকৃত’, এমন দাবি তার ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অতিরিক্ত আইজিপি পদে সম্ভাব্য পদোন্নতিকে সামনে রেখে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই মহলটি পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়।
একাধিক সূত্রের দাবি, তার নিজ ব্যাচ ও পূর্ববর্তী ব্যাচের কিছু কর্মকর্তার অংশগ্রহণে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া থেকে বিরত রাখার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। যদিও এই বৈঠকের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একই ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে, বিশেষ করে ওসি পদায়নে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনা হচ্ছে।
তবে পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো অনুযায়ী, থানার ওসি পদায়নের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের হাতে। এ প্রেক্ষাপটে ডিআইজিকে জড়িয়ে অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আরও জানায়, শুধু অনলাইন অপপ্রচারেই সীমাবদ্ধ নেই বিষয়টি। বরং তাকে ও তার পরিচিতজনদের ফোনে হুমকি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে।
এসব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেজাউল করিম মল্লিকের কর্মজীবন পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক আবারো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার জানিয়ে তার সহকর্মীদের একটি অংশের মতে, অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে তার সহকর্মীরা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন।
পরে তাকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা আলোচনায় আসে।
এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকা রেঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তার তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন প্রশাসনিক প্রতিযোগিতার একটি নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে তথ্য ও গুজব- দুটিই প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তারা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা এবং অপপ্রচারের উৎস শনাক্ত করা।







