বান্দারবানের মাতামুহুরী নদীর পাড়ে এক রিসোর্টে দুই নারী অতিথিসহ এক ঠিকাদারকে আটকে রেখে মারধর, ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বান্দারবান থানায় রাশেদ, অভি ও হৃদয়সহ অজ্ঞাত নামা আরও ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ জুন দুপুরে লং ভিউ স্টেশন রিসোর্টের মালিক ঠিকাদার আবু ছিদ্দিক তার পূর্ব পরিচিত দুই নারী অতিথির অনুরোধে নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করেন। নৌকা চালক মো. শাহেদের মাধ্যমে তারা মানিকপুর ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নৌকাটি ‘মাতামুহুরী রিভার সেট রিসোর্ট’-এর কাছাকাছি পৌঁছালে একজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি সহায়তার জন্য নৌকার চালক সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে রিসোর্টে গেলে তাদের একটি কক্ষে যেতে বলা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অসুস্থ গেস্টের ব্যাগ দিতে কক্ষে প্রবেশ করার পর রিসোর্টের মালিক দরজা আটকে দেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি ও তার গেস্টরা এর প্রতিবাদ করলে পরে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের মারধর করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা নারীদের একটি বাথরুমে নিয়ে আটকে রাখে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ ও স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দেখিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে নগদ ৪৮ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ১ হাজার টাকাসহ মোট ৪৯ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও তাকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয় এবং জোর করে একটি বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয়। পরে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে তাদের রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী অভিযোগে আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার সঙ্গে থাকা গেস্টরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামলে পরে থানায় এসে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী দণ্ডবিধি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ধারণকৃত ভিডিও, টাকা ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদার আবু ছিদ্দিক বলেন, ‘আমি আমার পরিচিত দুই নারী গেস্টকে নিয়ে নৌকাভ্রমণে বের হয়েছিলাম। একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানবিক কারণে পাশের রিসোর্টে সহায়তা নিতে যাই। সেখানে গিয়ে আমাকে ও আমার গেস্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখা হয়। জোর করে টাকা নেওয়া, ভিডিও ধারণ এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’
বান্দারবান লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

