ছাত্রীর স্বামীকে হুমকির অভিযোগ, অভিযুক্ত অফিস সহকারীকে শোকজ

সংগৃহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক ছাত্রীর স্বামীকে মুঠোফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বিদ্যুৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল হুদা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. এনামুল হক সাজু যৌথভাবে স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত বিদ্যুৎ দেবনাথ উপজেলার পশ্চিম কুমারপুর গ্রামের সুনীল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এক সাবেক মুসলিম ছাত্রী বিদ্যুৎ দেবনাথের কাছে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তেন। এ সূত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ওই ছাত্রীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিদ্যুৎ ওই ছাত্রীকে কলেজে ভর্তি করানোর জন্য স্বামীকে মুঠোফোনে তাগিদা দিয়ে আসছেন। এতে ওই ছাত্রীর স্বামী অনীহা প্রকাশ করলে তাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো ও বিদ্যুৎ দেবনাথের কাছে থাকা ছাত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর পরিবার। পরবর্তিতে এসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করানোর জন্য মেয়ে জামাইয়ের ফোনে বিরক্ত করে আসছে বিদ্যুৎ মাস্টার। এতে মেয়ের জামাই রাজি না হলে তাকে ফোনে বিরক্ত করাসহ হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে আমার মেয়ের সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. এনামুল হক সাজু বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অফিস সহকারীর সম্পর্কের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ দেবনাথ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বিদ্যুৎ দেবনাথ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি পলাতক ও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বলেছি।






