আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক যুবককে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে পৈশাচিক গণপিটুনি দেওয়ার পর ‘জনতার আদালত’ বসিয়ে নিজ জন্মভিটা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভয়ানক অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে।
গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবক এখন হাসপাতালের শয্যায় ছটফট করছেন। ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো. সবুজ, তিনি ওই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
মঙ্গলবার ১৬ জুন রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার থমুনিয়া সাহাপাড়া গ্রামে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতে শাহীন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল লোক সবুজকে আচমকা আটক করে। এরপর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে শুরু হয় নির্মম গণপিটুনি।
নির্যাতনের একপর্যায়ে সেখানে বসানো হয় তথাকথিত ‘জনতার আদালত’। সেই আদালত থেকে সবুজকে শর্ত দেওয়া হয়— যদি বেঁচে থাকতে চায়, তবে নিজের জন্মভিটা ও পীরগঞ্জ উপজেলা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে সেই অঙ্গীকার করে মুক্ত হন সবুজ। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে ভুক্তভোগী সবুজের আকুতি:
সবজু বলেন, ‘আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শাহীনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। আমি কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। মারধরে আমার একটি পা আজীবনের জন্য পঙ্গু (অকেজো) হয়ে গেছে।’
সবুজের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ গণপিটুনি নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। এর আগেও গত ৯ জুন একটি সংঘবদ্ধ দল সবুজের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সেই হামলার সময় সন্ত্রাসীরা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল প্রামাণিক জানান, সবুজের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
তবে ওসির এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী সবুজ জানান, অতীতে তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি অনেক আগেই সেই মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস ও মুক্ত হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁ আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, অপরাধী হলে সাজা দেবে দেশের প্রচলিত আইন ও আদালত। কিন্তু এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বর্বর নির্যাতন এবং ‘জনতার আদালত’ বসিয়ে নিজ জন্মভিটা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কি কারও আছে?
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।







