প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘ক্ষমতা যদি কারো একার হাতে পুঞ্জীভূত থাকে-কেন্দ্রীভূত থাকে তাহলে কোনভাবেই তার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব না।’
মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টার ও কোর্ট প্রযুক্তি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হবার পরপরই আমি যেটা ভাবি সেটা হচ্ছে, ক্ষমতা যদি কারো একার হাতে পুঞ্জীভূত থাকে-কেন্দ্রীভূত থাকে তাহলে কোনভাবেই তার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব না। যদিনা, তার সাথে কিছু সমমনা লোক কাজ না করে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমি প্রধান বিচারপতি হবার পর দেশের ৮টা বিভাগের জন্য ৮ জন বিচারপতিকে দিয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করি। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সে বিচারপতিরা উল্কার মত বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলার বিচারকদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছেন। ফলে বিভিন্ন জেলার মামলা নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হারে বেড়েছে।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘দুঃখের হলো, আজকে একটা সংস্কৃতি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে বিচারাধীন মামলা ব্যাপারে বক্তব্য দেয়া এবং মামলার বিষয়বস্তু (মেরিট) বিবেচনা ছাড়াই মন্তব্য করা। আমাদের মনে রাখতে হবে যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন। এই স্বাধীনতাকে কার্যকর করার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তি আছেন যারা তাদের সঙ্গীয় কাউকে বিচার করতে গেলেই স্টেটমেন্ট দেয়া শুরু করেন। এটা বিচার বিভাগকে অপমান করার সামিল। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে যে, আমরা কেউ আইনের উর্ধ্বে নই। সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার নিমিত্তে এরকম স্টেটমেন্ট দেয়া থেকে বিরত রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’
আজকের অনুষ্ঠান আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: মমতাজ উদ্দিন ফকির ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী। আজকের অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







