বিনোদন

সুনামির গল্পে পর্দা কাঁপানো যতো সিনেমা

সুনামির সময় মানুষজন দৌড়াচ্ছে, আতঙ্কিত ও ভীত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সুনামির সময় মানুষজন দৌড়াচ্ছে, আতঙ্কিত ও ভীত, সমুদ্রের কাছে একটি সেতুতে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

গত কয়েক দিন ধরেই বিশ্ব মিডিয়া সরগরম ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কতার খবরে! প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত নানা উপকূলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সতর্কতা নিছক নিয়ম মাফিক প্রটোকল নয়—বরং এগুলো বাস্তব হুমকির ইঙ্গিত।

যদিও শেষ পর্যন্ত বিধ্বংসী সুনামি দেখা না গেলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার ও হ্রাস করায় মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে চলেছেন।

তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সুনামি কেবল খবরের শিরোনাম নয়, বরং এক বাস্তব ও ভয়ংকর বিপর্যয়, যা মুহূর্তেই গ্রাস করে নিতে পারে জনপদ, শহর, মানুষের জীবন। অনেকেই এই দুর্যোগের প্রকৃতি ও প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। অথচ বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত কিছু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সুনামির ভয়াবহতা, মানবিক সংকট ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কাছ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব।

সেই ভাবনা থেকেই এই ফিচারে তুলে ধরা হলো সুনামি-নির্ভর কিছু আলোচিত ও প্রশংসিত সিনেমা— যেগুলো শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানুষের সাহস, ভালোবাসা আর লড়াইয়ের কথাও বলে-

দ্য ইম্পসিবল (২০১২)
জে.এ. বায়োনার পরিচালনায় নির্মিত ‘দ্য ইম্পসিব ‘ সম্ভবত সুনামি নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে হৃদয়বিদারক একটি সিনেমা। ২০০৪ সালের বাস্তব সুনামি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও চলচ্চিত্রটি একটি সম্পূর্ণ কল্পকাহিনিভিত্তিক আঙ্গিকে উপস্থাপিত। তিন সন্তানসহ এক দম্পতির থাইল্যান্ডে ছুটি কাটানোর সময় আচমকা সুনামিতে তারা আলাদা হয়ে পড়ে। শুরু হয় টিকে থাকার লড়াই ও একে অপরকে খুঁজে পাওয়ার মর্মস্পর্শী অভিযাত্রা।

নাওমি ওয়াটস এবং ইওয়ান ম্যাকগ্রেগরের অসাধারণ অভিনয় ও তরুণ টম হল্যান্ডের অনবদ্য আত্মপ্রকাশ এই সিনেমাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুর্যোগ-চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।

ডিপ ইম্প্যাক্ট (১৯৯৮)
মিমি লেডার পরিচালিত ‘ডিপ ইম্প্যাক্ট’ মূলত একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নির্ভর ছবি। যেখানে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা একটি বিশাল ধূমকেতু সারা মানবজাতিকে বিলুপ্তির মুখে ফেলে দেয়। যদিও পুরো ছবির কেন্দ্রবিন্দু ধূমকেতু ও মহাজাগতিক বিপর্যয়, তবে এর এক পর্যায়ে বিশালাকার সুনামি পৃথিবীর উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করে নেয়—যা হয়ে ওঠে সিনেমার অন্যতম ভিজ্যুয়াল হাইলাইট এবং আবেগঘন মুহূর্ত।

এই সুনামি দৃশ্য কেবল প্রযুক্তির দিক থেকেই নয়, মানবিক ট্র্যাজেডির গভীরতা দিয়েও দর্শকের মনে দাগ কাটে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে, মানুষের দৌড়ঝাঁপ, বিদায়, স্বজন হারানোর আতঙ্ক—সব মিলিয়ে এই দৃশ্য বহুদিন দর্শকদের মনে থেকে যায়।

দ্য ওয়েভ (২০১৫)
রোয়ার উথাউগ পরিচালিত নরওয়ের নয়নাভিরাম গেইরাঞ্জার ফিয়র্ড উপত্যকায় কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হঠাৎ করে নেমে আসতে পারে, ‘দ্য ওয়েভ’ সেই বাস্তব সম্ভাবনাকেই রূপ দিয়েছে রূপালি পর্দায়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফিকশন ফিল্ম, তবে বাস্তব ঘটনাকে আশ্রয় করে নির্মিত। ১৯৩৪ সালে নরওয়ের তাফজর্দে ঘটে যাওয়া ভূমিধস এবং তার ফলে সৃষ্ট ভয়ংকর সুনামি এই সিনেমার প্রেক্ষাপটের অনুপ্রেরণা।

বলা হয়, অসাধারণ ভিএফএক্সে তৈরি সুনামির দৃশ্য, যা ইউরোপিয়ান সিনেমার ক্ষেত্রে বিরল। যারা ভিন্ন দেশের বাস্তবঘন দুর্যোগ চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করেন—তাদের জন্য ‘দ্য ওয়েভ’ এক ‘মাস্ট ওয়াচ’ সিনেমা।

সান আন্দ্রিয়াস (২০১৫)
যদিও মূলত ভূমিকম্প কেন্দ্রিক, তবু এই চলচ্চিত্রের একটি প্রধান চমক হলো সান ফ্রান্সিসকো উপকূলে বিশাল সুনামির আছড়ে পড়া।

ডোয়াইন জনসন অভিনীত এই সিনেমায় একজন রেসকিউ পাইলট নিজের পরিবারকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালায়, যখন শহর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভূমিকম্প ও সুনামির কবলে।

টাইডাল ওয়েভ (২০০৯)
২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামি এবং পরবর্তীকালে কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প-সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয় কোরিয়ান দুর্যোগ সিনেমা ‘টাইডাল ওয়েভ’। এটি কোরিয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার ফিল্ম হিসেবে বিবেচিত এবং মুক্তির পর রেকর্ড সংখ্যক দর্শক হলে টেনে নেয়।

ব্যক্তি-মানুষের সম্পর্ক, আত্মত্যাগ, প্রেম এবং সাহস- সব কিছু মিলিয়ে এটি শুধুমাত্র সুনামি নিয়ে নির্মিত ফিল্ম নয়, বরং মানবিকতা ও বিপদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের চিত্র। যা দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

বিষয়:বিশ্ব মিডিয়া সিনেমা সুনামি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…