বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবসকে ভিন্ন আঙ্গিকে পালনের কমতি নেই কারো মধ্যে। প্রিয় মানুষটিকে ঘিরে রয়েছে নানান পরিকল্পনা। তবে যারা বাইরে ঘুরতে না গিয়ে ভালো কোনো রোমান্টিক সিনেমার শরণাপন্ন হওয়ার প্ল্যান করছেন, কিন্তু কোন সিনেমা দেখবেন- তা নিয়ে আছেন জটিলতায়। তাদেরকে সে ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে– ‘উই লিভ ইন টাইম’!
এই মুহূর্তে নিখুঁত রোমান্টিক কন্টেন্টের জন্য সেরা পছন্দ হবে এটি। ফ্লোরেন্স পিউ ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এখানে দুর্দান্ত দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। যারা জীবনের উত্থান-পতনের সম্মুখীন হন।
‘উই লিভ ইন টাইম’ সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ, যেখানে রোমান্টিক সিনেমাগুলো যুগ যুগ ধরে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। যারা ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ঘরে বসে একটি ক্লাসিক রোমান্টিক মুভি দেখতে চান, তাদের জন্য এমন ছবির সিনেমার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাক!
এখানে গত দশ দশকের সেরা রোমান্টিক সিনেমাগুলোর মধ্যে থেকে প্রতিটির জন্য একটি করে আইকনিক মুভি বেছে নেয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক রোমান্টিক সিনেমাগুলোর মধ্যে আপনার প্রিয় কোনটি?
১৯৩০-এর দশক: গন উইথ দ্য ওয়াইন্ড
‘গন উইথ দ্য ওয়াইন্ড’ গভীর ও আবেগময় প্রেমের গল্প। নিঃসন্দেহে ছবিটি সেই সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এমন দুর্দান্ত প্রেমের গল্প শুধু সেই সময়ের বক্স অফিস নয়, এখনো সমানভাবে আলোচিত।
১৯৪০-এর দশক: ব্রিফ এনকাউন্টার
নোয়েল কাওয়ার্ডের লেখা এবং ডেভিড লিনের অসাধারণ সিনেমাটি এটি। যদিও এটিকে সেই সময়ের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত প্রেম উপাখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৫০-এর দশক: অ্যান এফেয়ার টু রিমেম্বার
চটপটে সংলাপ এবং ক্যারি গ্রান্ট ও ডেবোরা কারের দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য ছবিটি কালজয়ী ছবির মর্যাদা পেয়েছে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী বহু রোমান্টিক সিনেমার জন্য এটি হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স!
১৯৬০-এর দশক: দ্য অ্যাপার্টমেন্ট
এই দশকে ‘সাম লাইক ইট হট’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও অনেকের মতে ‘দ্য অ্যাপার্টমেন্ট’-ই বিলি ওয়াইলডারের সর্বোত্তম চলচ্চিত্র। এটি নিঃসন্দেহে আরও রোমান্টিক।
১৯৭০-এর দশক: অ্যানি হল
উডি অ্যালেনের সর্বাধিক প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘অ্যানি হল’। চারটি অস্কার জিতেছিল ছবিটি। যার মধ্যে সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ছিল। বিশেষ করে, ডায়ান কিটন তার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে এক নতুন ধরনের রোমান্টিক নারী চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন—বুদ্ধিমান, অদ্ভুত স্বভাব, স্বাধীন, এবং যার স্বতন্ত্র ফ্যাশন স্টাইল সময়কে প্রভাবিত করেছিলো।
১৯৮০-এর দশক: হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি
খুব কম রোমান্টিক কমেডিই এত স্মার্ট, মজার, এবং গভীরভাবে আকর্ষণীয়! তবে খুব কম সিনেমারই ভাগ্যে জোটে নোরা এফরনের চৌকস স্ক্রিপ্ট, রব রেইনারের দক্ষ পরিচালনা, আর মেগ রায়ান ও বিলি ক্রিস্টালের অবিস্মরণীয় অভিনয়।
১৯৯০-এর দশক: বিফোর সানরাইজ
রিচার্ড লিংকলেটারের এই চলচ্চিত্র রোমান্টিক সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। যেখানে দুই তরুণ-তরুণী ট্রেনে দেখা করার পর ভিয়েনার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সারারাত জীবন ও ভালোবাসা নিয়ে কথা বলে। এই কাহিনির ভিত্তি হয়তো উত্তেজনাপূর্ণ মনে না-ও হতে পারে, কিন্তু এর আসল আকর্ষণ ইথান হক ও জুলি ডেলপির অনবদ্য রসায়ন এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত, গভীর কথোপকথন। এটি পুরোপুরি জেনারেশন-এক্স ধাঁচের একটি প্রেমের গল্প, তবে এতে পুরনো ক্লাসিক রোমান্টিক সিনেমার প্রতি সূক্ষ্ম শ্রদ্ধাও আছে।
২০০০-এর দশক: ইন দ্য মুড ফর লাভ
কিংবদন্তী পরিচালক ওং কার-ওয়াই নির্মিত কালজয়ী ছবি ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’। ১৯৬০-এর দশকের ব্যস্ত হংকংয়ের এক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে বসবাসরত দুই প্রতিবেশী জানতে পারেন যে তাদের জীবনসঙ্গীরা পরকীয়া করছে। কিন্তু প্রতারণার ধরন বোঝার চেষ্টায় তারা নিজেরাই এক জটিল ও সংযত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যা কখনোই সত্যিকারের প্রেমে রূপ নেয় না। চলচ্চিত্রটিতে টনি লিউং ও ম্যাগি চিউংয়ের পারফরমেন্স ছিল অনবদ্য। এতে অভিনয়ের সুবাদে টনি লিউং জিতে নেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার। এটি শুধু এক অসাধারণভাবে নির্মিত চলচ্চিত্রই নয়, বরং এক হৃদয়ভাঙা গল্প, যা আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অসমাপ্ত ভালোবাসার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
২০১০-এর দশক: ক্যারল
২০১০-এর দশকে বেশ কিছু অনন্য রোমান্টিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। লা লা ল্যান্ড, পোর্ট্রেট অব আ লেডি অন ফায়ার এবং দ্য বিগ সিক আছে এই তালিকায়। কিন্তু টড হাইনস-এর ‘ক্যারল’ শেষ পর্যন্ত সিনেসমালোচকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। কারণ এই সিনেমাটি নিছক প্রেমের গল্পের চেয়েও বেশি। এটি ১৯৫০-এর দশকের আমেরিকার কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ ও ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার এক দুর্দান্ত চিত্রায়ণ! ছবিতে শুধু ক্যাট ব্ল্যানচেটের অভিনয় নয়, একই সঙ্গে এই ছবিতে চিত্রনাট্য ও সিনেমাটোগ্রাফির অনবদ্য সংমিশ্রণ ঘটেছে বলে মনে করেন সমালোচকরা।
২০২০-এর দশক: পাস্ট লাইভস
বর্তমান যুগের জটিল বাস্তবতা ও আবেগকে ধারণ করার মতো আর কোনো সিনেমা ‘পাস্ট লাইভস’-এর মতো নিখুঁতভাবে করতে পারেনি। বিশেষ করে ‘উই লিভ ইন টাইম’-এর মতো ক্লাসিক আবেগী প্রেমকাহিনির বিপরীতে তো নয় ই। এটি হয়তো ট্রাডিশনাল রোমান্টিক সিনেমা নয়, তবে এটি নিঃসন্দেহে গভীর ও অন্তরঙ্গ প্রেমের গল্প বলে। শৈশবের দুই প্রিয়জনের মধ্যে জটিল সম্পর্কের চিত্রায়ন ‘পাস্ট লাইভস’। যেখানে প্রেমের সংজ্ঞা শুধুই প্রাপ্তি কিংবা আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশী কিছু! সমালোচকরা মনে করেন এটি মামুলি একটি সিনেমা নয়, বরং ২০২০-এর দশকের সেরা সিনেমাগুলোর একটি। শর্টলিস্ট








