তারকাদের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক সার্জারি এখন খুবই প্রচলিত একটি ব্যাপার। কম বেশি প্রায় সব তারকাই এখন এই পথে হাঁটছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে নানান সময়ে শরীরে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত প্লাস্টিক সার্জেন্টের দরজায় কড়া নাড়েন তারকারা।
তবে প্রকাশ্যে সে কথা স্বীকার করতে অধিকাংশ তারকারাই নারাজ থাকেন। সেই তালিকাতেই যুক্ত হলো আলিয়া ভাটের নাম।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রিশের গণ্ডি পেরোতই নাকি বোটক্সের সাহায্য নিয়েছেন আলিয়া। আর এই দাবী উঠতেই রীতিমত সরব হলেন এই অভিনেত্রী।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে এই দাবিকে গুজব সম্বোধন করে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটালেন আলিয়া। সেই সঙ্গে বডি শেমিং-এর বিরুদ্ধে সরব হন রাহার মা।
কিছুদিন আগেই প্যারিস ফ্যাশন উইকে ১০ কেজি ওজন ঝরিয়ে ব়্যাম্পে হাঁটেন আলিয়া। শুরু থেকেই চেহারা নিয়ে কম কথা শোনেননি তিনি। বলা হয়েছে, গালের অতিরিক্ত চর্বি সার্জারি করিয়ে বাদ দিয়েছেন তিনি, নাকেও হয়েছে অস্ত্রোপচার। এমনটাও বলা হয়, অপারেশনের জেরে তার মুখটা আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই সব দাবিই ওড়ালেন অভিনেত্রী।
নোটে লিখেছিলেন যে, ‘কসমেটিক সংশোধন বা অস্ত্রোপচার যারা বেছে নেন, সেটা দিয়ে আমি কাউকে বিচার করি না। সেটা তাদের ব্যক্তিগত অভিরূচি। কিন্তু এটা কী হচ্ছে! সমাজমাধ্যমের কিছু ভিডিও আপলোড করে দাবি করা হচ্ছে, “অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে নাকি আমার মুখ বেঁকে গিয়েছে, আমার হাসিতে পরিবর্তন এসেছে।…এটি আপনাদের মানুষের মুখের মনগড়া কথা, যার কোন ভিত্তি নেই। এখন আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চারপাশে তুলে ধরছেন, দাবি করছেন যে আমার নাকি একদিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত? আমার সাথে কি মজা করা হচ্ছে?”
আলিয়া আরো যোগ করেছেন যে, এগুলি ভিত্তিহীন অভিযোগ যা প্রমাণ ছাড়াই করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, ‘এই দাবিগুলি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার কোন প্রমাণ নেই। যুক্তি নেই। সবচেয়ে খারাপ কি জানেন, আপনি তরুণ, সংবেদনশীল মনকে প্রভাবিত করছেন যারা আসলে এই আবর্জনা বিশ্বাস করতে পারে। আপনি কেন করছেন, ক্লিকবেইটের জন্য? সাবধান…’।
দু’বছর আগে মেয়ের জন্ম দিয়েছেন আলিয়া। ৩১ বছর বয়সী আলিয়া আরও বলেন, মহিলাদের প্রায়শই তাদের শরীর দিয়ে বিচার করা হয়, চলে অবিরাম কাটাছেঁড়া। বাদ যায় না হবু মায়ের বেবি বাম্পও।
তিনি বলেন, ‘আসুন ইন্টারনেটে মহিলাদের বিচার এবং অবজেক্টিফাই করা হয় এমন অযৌক্তিক লেন্সগুলি সম্বোধন করার জন্য এক মিনিট সময় নেওয়া যাক আমাদের মুখ, শরীর, ব্যক্তিগত জীবন, এমনকি মহিলাদের স্ফীতোদর নিয়ে নানা মানুষের নানা মন্তব্যের প্রতিবাদ করা যাক। আমাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে উদযাপন করা উচিত, এটিকে মাইক্রোস্কোপের নিচে ছিন্ন ভিন্ন করা উচিত নয়।’- বলিউড লাইফ








