দিল্লির লালকেল্লার কাছে গত বছরের প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-এর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে লালকেল্লার কাছে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। এর মধ্যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটও ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা হামলা-সংশ্লিষ্ট চক্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল রাথারকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পর আত্মঘাতী হামলাকারী উমর মোহাম্মদ আতঙ্কিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তোলার পরিবর্তে ছোট ও পৃথক সেল তৈরির মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কৌশল নিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একিউআইএস বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়েছে, নতুন সন্ত্রাসী সেল গড়ে তুলতে একিউআইএস প্রতিবেশী বাংলাদেশকে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।
বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বাংলাদেশে উগ্রপন্থার বিস্তার এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
জাতিসংঘের মূল্যায়নে আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল/দায়েশ)-এর বিভিন্ন শাখার কর্মকাণ্ড ও সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী বহু বছর ধরে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
তবে অনলাইনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন কমিউনিটিতে এসব অস্ত্র তৈরির নির্দেশনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএসআইএল/দায়েশের ইংরেজি ভাষার সাময়িকী ‘ইনভেড’-এ বটুলিনাম টক্সিন ও সায়ানাইড তৈরির নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)।
অভিযোগপত্রে আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এজিইউএইচ-কে একিউআইএস-এর একটি মনোনীত শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তদন্তে এনআইএ জানতে পারে, অভিযুক্তদের কয়েকজন, যাদের মধ্যে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিও রয়েছেন, উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং এজিইউএইচ-এর নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কাজে সক্রিয় ছিলেন।
২০১৮ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একিউআইএস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, অত্যন্ত অস্থিতিশীল বিস্ফোরক ট্রায়াসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (টিএটিপি) ব্যবহার করে হামলাটি চালানো হয়েছিল। গোপনে বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করে একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অভিযুক্তরা ওই বিস্ফোরক তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই সন্ত্রাসী চক্রের কর্মকাণ্ড শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেও নেটওয়ার্ক বিস্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল অভিযুক্তরা।


