ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগের জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের পর সন্ধ্যায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই রোববার বিকালে পৌর শহরের জগথা এলাকায় ‘লিচু তলা’ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমবেত হন উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী।
সেখানে তারা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজই প্রথম দলটিকে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেল।
উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন মন্ডল, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিগান, সাবেক ছাত্রনেতা সাগর ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কবির ইসলামসহ আরও অনেকে।
আওয়ামী লীগের পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে উপজেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আওয়ামী লীগের ওই অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা কার্যালয়ের সামনে থাকা আসবাবপত্র ও টেবিল ভাঙচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম প্রথমে অবগত নন বলে জানালেও পরে বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল বা রাজনৈতিক প্রচারণা আইনত নিষিদ্ধ।








