দিন কয়েক আগেই পরেশ রাওয়াল জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাকে দেখা যাবে না ‘হেরা ফেরি ৩’ ছবিতে। কোন মত বিরোধ নয়, ব্যক্তিগত কারণেই নাকি সরে দাঁড়িয়েছেন ‘হেরা ফেরি’-র অপরিহার্য চরিত্র ‘বাবুরাম’। আর তার পরেই চমকে দিলেন স্বয়ং অক্ষয় কুমার।
জানা গেছে, পরেশের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মামলা করতে চলেছেন তিনি। অক্ষয়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘কেপ অব গুড ফিল্মস’-এর তরফে পরেশকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অপেশাদারিত্বের কারণে প্রযোজনা সংস্থার ক্ষতি, ‘হেরা ফেরি ৩’-এ অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েও তা ভঙ্গ করা, শুটিং শুরুর পর সরে দাঁড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে পরেশের বিরুদ্ধে।
গত সপ্তাহেই পরেশ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এই কমেডি ছবিতে অভিনয় করছেন না। কারণ হিসাবে তেমন স্পষ্ট কিছু না জানালেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তার ভাল লাগছে না কাজ করতে। আর তার পরেই অনুরাগীদের মধ্যে ছবি নিয়ে উৎসাহে ভাটা পড়ে।
‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্জাইজির তৃতীয় ছবিটি পরিচালনা করছেন বর্ষীয়ান পরিচালক প্রিয়দর্শন। তবে এবার প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার কাছ থেকে স্বত্বাধিকার কিনে নিয়েছিলেন অক্ষয়। তৃতীয় ছবিটি তার প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছিল।
অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি এবং পরেশ রাওয়ালকে নিয়ে শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছিল গত এপ্রিল মাসেই। এরই মধ্যে হঠাৎ পরেশ ঘোষণা করেন তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। স্পষ্ট করে দেন, কাজ নিয়ে বা অর্থ সংক্রান্ত কোন মতবিরোধ ঘটেনি তার সঙ্গে। সূত্রের খবর, প্রায় তিনগুণ পারিশ্রমিক পাচ্ছিলেন পরেশ এই ছবির জন্য।
আইনি পরামর্শদাতাদের একটি সূত্র দাবি করেছে, “পরেশ পেশাগত এবং বাণিজ্যিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন। কাজ যদি করতে না চান, তাহলে আইনি চুক্তি সই করার আগেই তা জানাতে পারতেন। প্রযোজক ইতিমধ্যেই বহু টাকা খরচ করে ফেলেছেন শুটিংয়ের জন্য।” ওই সূত্রের দাবি, “হলিউডের মতো বলিউড তারকাদেরও বোঝার সময় হয়েছে প্রযোজক তাদের মর্জি মতো অর্থ খরচ করতে বসে নেই।”
৩৫ বছরের বলিউড জীবনে এই প্রথম কোন সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করছেন খিলাড়ি কুমার। তবে পরেশের জীবনে এমন হঠাৎ সরে আসার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও তিনি ২০২৩ সালে ‘ওহ মাই গড ২’ ছবি থেকেও সরে এসেছিলেন। সে বার তিনি দাবি করেছিলেন, তার চিত্রনাট্য পছন্দ হচ্ছে না।
২০০৯ সালেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল কথা দিয়ে কথা না রাখার। সেবার তিনি সরে এসেছিলেন শাহরুখ খানের ‘বিল্লু বারবার’ থেকে। ঘটনাচক্রে সে ছবির পরিচালকও ছিলেন প্রিয়দর্শন।








