বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সেন্টার ব্যাক আঁখি খাতুন বাফুফের রাডারে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপস্থিত। মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ক্যাম্প থেকে ছুটি নিলেও মাসখানেকের বেশি ধরে তিনি ফেরেননি।
ফুটবলপাড়ায় আলোচনা, তিনদিনের ছুটি নিয়ে দীর্ঘসময় ক্যাম্পে না ফেরায় আঁখিকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চিঠির জবাব না দেয়ায় তার ক্যাম্পে ফেরা নিয়েও নাকি জাগছে শঙ্কা।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন আঁখি। মায়ের অসুস্থতা নিয়ে লিখেছেন। পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।
‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমি আঁখি খাতুন। বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের একজন গর্বিত সদস্য। দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিকসহ জাতীয় দলের হয়ে খেলে আসছি। নারী ফুটবল দলের হয়ে অনেক সাফল্যের সাক্ষী হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত।’
‘আমার আজকের আঁখি খাতুন হয়ে উঠার পেছনে আপনারা যেমন আমার পাশে ছিলেন এবং পাশে আছেন, ঠিক তেমনি আমার মা-বাবা ও পরিবারের সাহস, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া আমি ফুটবলার আঁখি হতে পারতাম না।’
‘উপরের ছবিতে আমার পাশে যাকে দেখছেন তিনি আমার মা। যিনি আমাকে প্রচণ্ড ভালবাসেন। সেই মাকে আমি ছোটবেলা থেকেই পেটে ঘা এবং জরায়ু সমস্যায় অসুস্থ দেখে আসছি। আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি প্রতিদিন ফুটবল খেলতে যেতাম মাকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রেখে।’
‘আমার পরিবারে আমার বাবা ও ভাই ছাড়া মায়ের সেবা করার মতো কোনো নারী সদস্য নেই। ফুটবলের প্রতি গভীর টান ও ভালোবাসা ছিল বলেই অসুস্থ মাকে বাসায় রেখে প্রতিদিন ছুটে যেতাম ফুটবল মাঠে।’
‘বর্তমানে আমার মায়ের অবস্থা বেশ ভালো নয়। এই মুহূর্তে মায়ের পাশে থাকাটা আমার খুবই প্রয়োজন এবং আমি আমার মায়ের সেবায় নিয়োজিত আছি। তাই আমি কিছুদিন যাবত ফুটবল থেকে একটু দূরে আছি।’
‘বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার রাশিদা খাতুন এর অধীনে মায়ের চিকিৎসা চলছে। খুব শীঘ্রই মায়ের অপারেশন হবে। আমার মায়ের জন্য আপনাদের কাছে আকুতি জানাচ্ছি, আমার মায়ের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আমার মা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।’
‘ইনশাল্লাহ আমার মা সুস্থ হয়ে উঠলে আমি আবারো মাঠে ফিরে আসব। কারণ ফুটবলের প্রতি রয়েছে আমার গভীর ভালবাসা। এই ফুটবলই আমাকে আজকের আঁখি খাতুন বানিয়েছে।’
‘সর্বশেষে মিডিয়ার ভাইয়াদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার এবং আমার মায়ের বর্তমান অবস্থা না জেনে, আমার মতামত না নিয়ে যেকোনো ধরনের খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন। আমার পাশে থাকার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’








