রাহাত হোসাইন: পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস হয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করে চালিয়েছেন সংসার। পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন। তার ইচ্ছা ও পরিশ্রমের ফসল এখন তার হাতে। এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন আহাদ।
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের পরিবারের বড় ছেলে আহাদ। তীব্র ইচ্ছা শক্তি, পরিশ্রম আর অদম্য মেধা থাকলে সফলতা আসবেই। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শিরুয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহাদ। তার ফলাফলে খুশি পরিবার ও স্কুলের সবাই। তবে তার কলেজে ভর্তি নিয়ে দেখা যাচ্ছে অনিশ্চয়তা।
আহাদের পিতা দেলোয়ার হোসেন ঢাকায় ফেরি করে বেডসিট বিক্রি করতেন। তাতেই কোনমতে চলতে তাদের সংসার ও পড়াশোনা। কিন্তু দুই বছর আগে বাবা ব্রেইন স্ট্রোক অসুস্থ পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তখন ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহাদের ওপর এসে পড়ে পরিবারের বোঝা।
শুরু করেন রাজমিস্ত্রির কাজ, কিন্তু বন্ধ করেননি লেখাপড়া। মেধাবী আহাদের পড়াশোনা এগিয়ে আসেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সহযোগিতায় কাজের পাশাপাশিই চলে পড়াশোনা। একদিকে সংসারের বোঝা আর অন্যদিকে পড়াশোনার চাপ দুটোই সমান তালে চালিয়ে যায় আহাদ।
আহাদের ফলাফলে আবেগপ্লুত পরিবার। ছেলের ফলাফলে খুশি হয়ে অসুস্থ পিতা হাঁটতে সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও বাজারে যান মিষ্টি কিনতে। মায়ের চোখে আনন্দের অশ্রু। তবে আর্থিক কারণে তার কলেজে ভর্তি নিয়ে দেখা যাচ্ছে অনিশ্চয়তা।তাই আহাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অদম্য মেধাবী আহাদ সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে আরও অনেক দূর এগিয়ে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের।








