বাহরাইন, কুয়েত, আবুধাবি, দুবাই ও আরব আমিরাতের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে, যেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে।
এরপর বাহরাইন, কুয়েত, আবুধাবি, দুবাই, আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন জানিয়েছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল।
শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হামলা শুরু করে। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত হামলা চালানো হয়েছে এবং রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এছাড়া স্থানীয় অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ নগরীতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উদ্যোগে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস-এ সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে না ইরান। এই পরিস্থিতিকে তিনি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ওমান-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড-এর জেনেভা-য় ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরানের মাটিতে হামলা চালিয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে, যখন ট্রাম্প তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার ওপর বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এই হামলার মাধ্যমে তিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বিরোধের পর ইরানের ওপর আক্রমণের অনুমোদন দেওয়া প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি হন।
ট্রাম্পের মতে, হামলার উদ্দেশ্য হলো ইরানি সরকারের দমন নীতিতে নিহত প্রতিবাদীদের রোধ করা। এই আন্দোলন গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, অন্তত ৫ হাজার ৫২০ প্রতিবাদী নিহত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ দাবি করেছে, যাতে নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপের পর আন্দোলন স্তিমিত হয়েছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দমন হিসেবে বিবেচিত।








