টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ করেছে আফগানিস্তান। প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে গেছে দলটি। আইসিসির পূর্ণসদস্য দেশ হিসেবে নারী ক্রিকেট দল থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা আপাতত নেই আফগানদের। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারী ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর দেশ থেকে পালিয়ে নির্বাসিত রয়েছেন আফগান জাতীয় নারী দলের ক্রিকেটাররা। তিন বছরেও সরকার থেকে অনুমতি না মেলায় এবার শরণার্থী দল হিসেবে ক্রিকেট খেলতে চান দলটির মেয়েরা।
২০২০ সালে আফগানিস্তান নারী ক্রিকেট দলের পথচলা শুরু হয়। সেবছর নভেম্বরে ২৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। একবছরের মাথায় তালেবান ক্ষমতায় এলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নারী ক্রিকেটাররা। সেদলের ১৭ জন একত্রিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। দেশের প্রতিনিধিত্ব না করতে পারায় ভিনদেশে আফগান নারীদের নিয়ে শরণার্থী দল গঠনের জন্য আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে তারা।
চিঠিতে তারা বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের সরকারি নীতির কারণে, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসি তাদের জাতীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। আমরা এসিবির ব্যানারে খেলার দাবি জানাচ্ছি না। অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থী দল হিসেবে নিজেদের ক্রিকেট প্রতিভা দেখাতে চাই। আফগান নারীদের যারা ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু আফগানিস্তানে পারছেন না। তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে উৎসাহিত করবে। আইসিসি থেকে অনুমোদন ও আর্থিক সহায়তা পেলে দুর্দান্ত অর্জনগুলোর প্রদর্শন করতে চাই।’
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রশিদ খানদের দারুণ সাফল্যের প্রশংসা করা হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে, ‘নারী দলের পূর্বে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা, ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অর্জনে গর্বিত ও অত্যন্ত আনন্দিত। রশিদ খান ও তার দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে দুঃখের বিষয়, ছেলে ক্রিকেটারদের মতো আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি না।’
শরণার্থী দল গঠন করার উদ্দেশ্যও খোলাসা করা হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে, ‘শরণার্থী দল গঠনেরে মূল উদ্দেশ্য, আমাদের প্রতিভা বিকাশ করা এবং প্রদর্শন করা। আফগানিস্তানে থাকা নারীদের স্বপ্ন দেখানো এবং নারীরা সেখানে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন, তা তুলে ধরা।’








