আফগানিস্তানে পুরো দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ফাইবার-অপটিক সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রক্রিয়া শুরু করে তালেবান। তাদের দাবি, এ পদক্ষেপ অশ্লীলতা রোধ ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের অংশ। অনির্দিষ্টকালের জন্য এi সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে তালেবান কর্মকর্তারা।
এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ৯টা) হঠাৎ করে ফাইবার-অপটিক সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মোবাইল ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট টিভি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাবুল কার্যালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে শরিয়াহর কঠোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে তালেবান সরকার। এবার টেলিযোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন।
ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, মঙ্গলবার অন্তত আটটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস নেটব্লকস জানিয়েছে, আফগানিস্তান বর্তমানে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে। সকাল থেকেই ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, এমনকি টেলিফোন সেবাও প্রভাবিত হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন প্রদেশের ব্যবহারকারীরা ধীরগতির ইন্টারনেট বা সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। তালেবান বলেছিল, বিকল্প ইন্টারনেট রুট তৈরি করা হবে, তবে এই বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানায়নি। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ হলে তাদের কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।








