বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের পাত্তাই দিল না ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মার একাধিক রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির ইনিংসে বড় জয় পেয়েছে আসরের হট ফেভারিট দলটি।
দিল্লিতে টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমে ৮ উইকেটে ২৭২ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জবাবে নেমে ৯০ বল ও ৮ উইকেট হাতে জয় নিশ্চিত করেছে ভারত।
আফগানদের তুলোধুনো করে তিনটি রেকর্ড গড়েছেন রোহিত শর্মা। ১৬টি চার ও ৫ ছক্কায় ৮৪ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্রুততম হাজার রানের রেকর্ডটিতে ওয়ার্নারের সাথে অবস্থান এখন রোহিতের। ভারতের বিপক্ষে চলমান আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৯ ইনিংসে হাজারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন বাঁহাতি অজি তারকা। আফগানদের বিপক্ষে রোহিতও পূর্ণ করেন হাজার রান। ওয়ার্নারের সমান ১৯ ইনিংস খেলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এর আগে রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের। ২০ ইনিংসে হাজার পূর্ণ করেছিলেন তিনি।
৬৩ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভেঙ্গেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। বিশ্বকাপে ৬টি সেঞ্চুরি করে কিংবদন্তির সাথে যৌথভাবে অবস্থান করছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। সেটি ছাড়িয়ে তার শতক এখন ৭টি।
পাঁচ হাঁকানোর ম্যাচটিতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক ছক্কার মালিক বনে গেছেন রোহিত। ক্রিস গেইলকে পেছনে ফেলে রোহিতের ছক্কার সংখ্যা এখন ৫৫৬টি। গেইল হাঁকিয়েছেন ৫৫৩টি ছক্কা।
আফগানদের দেয়া লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম উইকেট জুটিতে ১৫৬ রান তোলেন রোহিত শর্মা ও ঈশান কিষাণ। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে কিষাণকে ফেরান রশিদ খান। ৪৭ বলে ৪৭ রান করেন কিষাণ।
জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে ২৬তম ওভারের ৪ চতুর্থ বলে দলীয় ২০৫ রানে রশিদের শিকার হন রোহিত। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৮৪ বলে ১৩১ রান করেন।
এরপর শ্রেয়াস আয়ারকে সঙ্গী করে ফিফটি পূর্ণ করে ৩৫তম ওভারের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করেন বিরাট কোহলি। কিংবদন্তি ব্যাটার অপরাজিত ছিলেন ৫৬ বলে ৫৫ রান করে। আর শ্রেয়াস ২৩ বলে ২৫ রানে।
আফগানদের হয়ে দুটি উইকেটই নেন রশিদ খান।
আগে ব্যাটে নেমে শুরুটা খুব একটা খারাপ করেনি আফগানিস্তান। ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। ইব্রাহিম জাদরান ফিরে যান ২৮ বলে ২২ রান করে। ৬৩ রানে দুই ব্যাটারকে হারায় আফগানরা। ২৮ বলে ২১ রান করা গুরবাজকে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। আর ২২ বলে ১৬ রান করা রহমত শাহকে ফেরান শার্দুল ঠাকুর।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১২১ রান তোলেন হাসমতউল্লাহ ও আজমতউল্লাহ। ৩৪.২ ওভারে আজমতউল্লাহকে ফেরান হার্দিক। ৬৯ বলে ৬২ রান করে বোল্ড হন তিনি।
৪২.৪ ওভারে ২২৫ রান হাসমতউল্লাহ ফেরেন কূলদীপের শিকার হয়ে। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে করেন ৮৮ বলে ৮০ রান।
এরপর দশ যোগ করতেই আরও দুই ব্যাটারকে হারায় তারা। তাতেই থেমে যায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা। ৪৫তম ওভারে নাজিবুল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবীকে ফেরান বুমরাহ।
৪৯তম ওভারের প্রথম বলে রশিদ খানকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান বুমরাহ। কূলদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেন ১২ বলে ১৬ রান। পরে নাভিন উল হককে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন মুজিব উর রহমান। মুজিব অপরাজিত ছিলেন ১২ বলে ১০ রানে, নাভিন ৮ বলে ৯ রানে।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন বুমরাহ। ১০ ওভার বল করে খরচ করেন মাত্র ৩৯ রান। হার্দিক পান্ডিয়া নেন দুটি উইকেট। এছাড়া কূলদীপ ও শার্দুল নেন একটি করে উইকেট।








